নারীদের ‘স্পেশাল ট্রিটমেন্ট’ দরকার নেই, প্রাপ্য অধিকারটুকু যেন ঠিকভাবে পাই: নারী ভোটার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি দেখা গেছে। অনেকেই শাড়ি পরে সাজগোজ করে ভোট দিতে এসেছেন। তারা বলছেন, তাদের 'স্পেশাল ট্রিটমেন্ট' বা অতিরিক্ত কিছুর প্রয়োজন নেই, মানুষ হিসেবে কেবল তাদের প্রাপ্য অধিকারটুকু নিশ্চিত হলেই তারা খুশি।
স্কুলশিক্ষক রাশেদা খাতুন সকাল সোয়া ৭টার দিকে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন। তিনি বলেন, "এই কেন্দ্রে আমি দ্বিতীয় নারী ভোটার। অনেক দিন পর ভোট দেওয়ার অধিকার পেলাম, খুব ভালো লাগছে। আমরা নিজেদের জন্য কিছু চাই না, শুধু চাই যোগ্য নেতৃত্ব আসুক, দেশ ভালোভাবে চলুক, উন্নয়ন হোক, মানুষ নিরাপদে থাকুক।"
লাল-সবুজ শাড়ি পরে কামরাঙ্গীরচরের হাজী আব্দুল আউয়াল কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন ইলোরা় শারমীন। তিনি বলেন, "সুষ্ঠুভাবে ভোট হয়েছে। কেন্দ্রে সবাই সহযোগিতা করেছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হচ্ছে, আমরা খুব খুশি। আমি, আমার মা ও ভাই নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছি। এখন চাই দেশ ভালো থাকুক।"
তিনি আরও বলেন, "রাজনৈতিক দলগুলো নারীদের জন্য বিভিন্ন বিশেষ সুবিধার কথা বলে। আমরা চাই এমন সরকার আসুক, যারা নারীকে মানুষ হিসেবে তার প্রাপ্য অধিকারটুকু দেবে। বাড়তি কিছু লাগবে না। নারীরা যেন সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারেন।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিসা হক সুবহা জীবনে প্রথমবার ভোট দিয়েছেন। সকাল পৌনে ১০টার দিকে সিদ্ধেশ্বরী বয়েজ কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে তিনি বলেন, "জীবনের প্রথম ভোট, খুব উৎসাহিত ছিলাম। প্রথমে একটু ভয় লাগছিল, কিন্তু কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দেখে ভয় কেটে গেছে। তবে নারী ভোটার কিছুটা কম মনে হয়েছে। গণভোটেও অংশ নিয়েছি। যোগ্য নেতৃত্ব চাই।"
ইস্কাটনের প্রভাতী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দ্বিতীয়বারের মতো ভোট দেন রুবাইয়া আক্তার ববি। তিনি বলেন, "এবার সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে। ভোট দিতে পেরে খুব খুশি। এখন যোগ্য নেতৃত্বের অপেক্ষায়, যাতে দেশে শান্তি আসে।"
