৩৭ মেডিকেল কলেজে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার সম্প্রসারণের উদ্যোগ
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
একইসঙ্গে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের জন্য সেবার পরিধি সম্প্রসারণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করতে সারা দেশে কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আজ বুধবার (১০ জুন) সংসদে সরকারি দলের (সংরক্ষিত নারী আসন-১১) সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার প্রথম চালু হয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে। শুরুতে দেশের ৮টি পুরনো মেডিকেল কলেজে এ কার্যক্রম চালু করা হয়। পরে আরও ছয়টি নতুন মেডিকেল কলেজে সম্প্রসারণের মাধ্যমে মোট ১৪টি ওসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে দেশে ১৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি জানান, ওসিসিগুলোতে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষা এবং পুনর্বাসনসহ সমন্বিত সেবা প্রদান করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে ২২ জন প্রশিক্ষিত জনবল থাকার কথা, যার মধ্যে চিকিৎসক, নার্স, পুলিশ কর্মকর্তা, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, আইন কর্মকর্তা ও অন্যান্য সহায়ক কর্মী রয়েছেন।
মন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে ৮১ হাজার ৯২৮ জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের শিকার ৪৯ হাজার ৭৬৭ জন, যৌন নির্যাতনের শিকার ৩১ হাজার ৫৯৬ জন এবং অগ্নিদগ্ধ ৫৬৫ জন রয়েছেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের প্রতিটিতে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সেবার আওতা ও সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
ডা. জাহিদ হোসেন আরও জানান, বর্তমানে দেশে ৯৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ৩০টি জেলা সদর এবং ৬৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের ৬৪টি জেলা এবং পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলের ধারণাকে আরও কার্যকর করতে বর্তমানে এর নতুন নামকরণ করা হয়েছে 'কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি)'। কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।
এ সময় সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী নারী ও শিশু নির্যাতনের উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, বেশিরভাগ ভুক্তভোগী সামাজিক ভয় ও চাপে নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ করেন না। তিনি ১০৯ জাতীয় হেল্পলাইন, ৯৯৯ এবং ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার সম্পর্কে জনগণের সীমিত সচেতনতার বিষয়টিও তুলে ধরেন।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে একটি জাতীয় গণসচেতনতা আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই। কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত কিশোর-কিশোরী ক্লাব, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সম্পৃক্ত করে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সম্ভব নয়। এজন্য সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজন এবং সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে বহুমাত্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯-এর কার্যক্রম সচল রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেবার পরিধি বৃদ্ধি, কুইক রেসপন্স টিমের সম্প্রসারণ এবং ব্যাপক জনসচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে।
