১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার দাবি জামায়াত আমিরের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনে যদি কোনো বড় ধরনের হস্তক্ষেপ না হয়, তবে জনগণের রায়ে প্রাপ্ত ফলাফল যা-ই আসুক না কেন, তা আমরা নিঃসঙ্কোচে মেনে নেব।
তিনি আরও বলেছেন, প্রাথমিক আভাসে আমাদের ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য আমাদের আরও কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনের নির্বাচনি প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনের প্রাথমিক চিত্র ও দলীয় অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, 'সারাদেশে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল আসতে শুরু করেছে। রাত ১১টা নাগাদ হয়তো একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়া যাবে। এখনই অগ্রিম কিছু বলা সমীচীন হবে না। আমরা মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করি এবং জনগণের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। প্রাথমিক আভাসে আমাদের ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য আমাদের আরও কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে।'
নির্বাচন পরবর্তী সম্প্রীতির গুরুত্ব উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, 'নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। কিন্তু আমরা কোনো হিংসার পরিবেশ রাখতে চাই না। আমার আসনে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী যিনি ছিলেন, তিনি আমার সহযোদ্ধা। আমরা বিজয়ী হলে সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করব। এমনকি সরকার গঠনের সুযোগ পেলেও আমরা সকল দলকে পাশে পেতে চাইব। বিদেশের সাথেও আমাদের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে।'
শফিকুর রহমান দলের ইতিহাস ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, 'বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইতিহাসের একটি পরীক্ষিত দল। জন্মের পর থেকে এ দলটি বারবার নিষিদ্ধ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, কিন্তু কখনো থেমে থাকেনি। এই দলের হাল যারা ধরেছিলেন, তারা আজ কেউ বেঁচে নেই। কেউ স্বাভাবিকভাবে বিদায় নিয়েছেন, আবার কেউ চরম জুলুমের শিকার হয়ে দুনিয়া ত্যাগ করেছেন। আজকের এই আবেগঘন মুহূর্তে আমি হৃদয়ের গভীর থেকে তাদেরকে স্মরণ করছি এবং আল্লাহর দরবারে তাদের উত্তম প্রতিদান কামনা করছি। তাদের আত্মত্যাগ এবং অগণিত মানুষের চোখের পানিই আজ বাংলাদেশকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।'
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, 'যদি মহান আল্লাহ আমাদের জাতির সেবা করার সুযোগ দেন, তবে আপনাদের (সাংবাদিকদের) আমার পাশে বড় প্রয়োজন। আপনারা আমাদের ইতিবাচক কাজগুলো যেমন তুলে ধরবেন, তেমনি আমাদের ভুল হলে তা ধরিয়ে দিয়ে যৌক্তিক সমালোচনা করবেন। আমরা চাইব মিডিয়া জগত যেন পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে। তবে সেই স্বাধীনতা হতে হবে দেশ ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে। আমরা এমন পরিবেশ গড়তে চাই যেখানে শাসকের নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে মিডিয়া দ্বিধাবোধ করবে না।'
প্রবাসীদের অবদান এবং মেধা মূল্যায়নের বিষয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন, 'প্রবাসীরা আমাদের সম্পদ, কিন্তু তারা প্রাপ্য সম্মান পান না। আমরা কেবল তাদের পাঠানো আর্থিক রেমিট্যান্স নয়, বরং 'ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স' বা মেধাসম্পদকেও কাজে লাগাতে চাই। উন্নত বিশ্বে থাকা আমাদের অভিজ্ঞ ও মেধাবী কারিগররা যেন দেশ গড়ায় অংশ নিতে পারেন, আমরা সেই পরিবেশ তৈরি করব।'
