বিকেল পর্যন্ত চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ভোট পড়েছে ৪৪ শতাংশ, দুপুরের পর কমেছে
চট্টগ্রাম নগরীর আমবাগান রেলওয়ে এমপ্লয়িজ গার্লস হাই স্কুলে স্থাপিত দুটি ভোটকেন্দ্রের একটিতে (কেন্দ্র নম্বর-৭৪) ভোট শুরুর প্রথম চার ঘন্টা, অর্থাৎ বেলা ১২টা পর্যন্ত ৩০ শতাংশের মতো ভোট পড়ে। বিকেল সাড়ে তিনটায় পরবর্তী তিন ঘন্টায় মাত্র ৪ শতাংশের মতো ভোট পড়েছে। অর্থাৎ, বেলা গড়ানোর পর ভোটার সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে একই চিত্র পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের তথ্যমতে, বেলা ১টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে মোট ২৬ দশমিক ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এরপর বিকেল সাড়ে তিনটায় এই হার দাঁড়ায় ৪৪ শতাংশ।
আমবাগান রেলওয়ে এমপ্লয়িজ গাল্স হাই স্কুলের ৭৪ নম্বর কেন্দ্রে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ২ হাজার ৩১৩ ভোটের মধ্যে ৭৮৬ ভোট পড়েছে। অর্থাৎ ভোট প্রদানের হার ছিল ৩৩.৯৮ শতাংশ। একই স্কুলে শুধু নারীদের জন্য স্থাপিত আরেকটি কেন্দ্রে (৭৩ নম্বর) ৩ হাজার ৮৩৯ ভোটের মধ্যে ১ হাজার ৩৪৪টি ভোট পড়েছে। যেখানে ভোট প্রদানের হার ছিল ৩৫ শতাংশ।
কেন্দ্র দুটির প্রিসাইডিং অফিসার মিঠু ভৌমিক ও ইশতিয়াক হোসেনে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, দুপুরের পর ভোটের হার একেবারে কমে গেছে। বিশেষ করে পুরুষ ভোটার অনেক কম ছিল। তবে কিছু সংখ্যক নারী ভোটার নিজেদের সাংসারিক কাজ শেষ করে দুপুরের দিকে এসেছিলেন।
নগরীর লালখানবাজার শহীদনগর বিদ্যালয়ের কেন্দ্রেও একই অবস্থা দেখা গেছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আধ ঘন্টা আগে গিয়ে দেখা গেছে, ভোটার শূন্য কেন্দ্রে পোলিং অফিসাররা অলস সময় পার করছেন। কোনো লাইন নেই। অনেকক্ষণ পর পর একজন একজন করে ভোট দিতে আসছেন।
বিদ্যালেয় স্থাপিত ৮০ নম্বর কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার শরীফুল ইসলাম টিবিএসকে বলেন, "বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পুরুষ কেন্দ্রটির মোট ৩ হাজার ২০১ জন ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ২৯৩ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোট পড়ার হার ছিল ৪৩ শতাংশ। দুপুর ১২টায় তা ছিল ২৮ শতাংশ। দুপুরের পর ভোট পড়ার হার একেবারে কমে গেছে।"
বিদ্যালেয় স্থাপিত ৮১ নম্বর কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার রুপম চৌধুরী টিবিএসকে বলেন, "মহিলা কেন্দ্রটিতে বিকাল পৌনে ৪টা পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৫ ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ১৪৮ জন ভোট দিয়েছিলেন। ভোট প্রদানের হার ছিল ৩৭ শতাংশ। দুপুর ১২-১টা পর্যন্ত যা ছিল ২২-২৫ শতাংশ। সকালে ভোটার উপস্থিতি বেশি ছিল। এরপর দুপুরে কিছুটা কমেছিল। এরপর আবার দুপুরের পর কিছু কিছু ভোটার আসতে শুরু করেছিলেন।"
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে ১৬টি আসনে মোট ১১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চট্টগ্রামে মোট ভোটার রয়েছেন ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৭ জন। নারী ভোটারের সংখ্যা ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬০ জন। ভোটারদের মধ্যে হিজড়া আছেন ৭০ জন।
এর ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৩১৭ জন।
এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামে ১ হাজার ৯৬৫টি কেন্দ্রে ভোটকক্ষ আছে ১২ হাজার ৬০১টি। প্রতি ভোটকেন্দ্রে একজন করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আছেন। এরমধ্যে ৬৫৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ছিল ২ হাজার ২৩টি। অর্থাৎ দুই বছর পর হতে যাওয়া এবারের নির্বাচনে ৫৮টি ভোটকেন্দ্র কমেছে।
