ফাঁকা রাজধানীর প্রধান সড়ক, অলিগলিতে ভোটের উৎসব
মিরপুরের ভোটার রিকশা চালক আসলাম। মিরপুর-১০ গোল চত্বরে তার রিকশা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন যাত্রীর জন্য। এসময় কথা হয় আসলামের সাথে। তিনি জানান, এবারে নির্বাচনের আগেই তার ভোটার এলাকা সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকা-১৬ আসনে স্থানান্তর করেছেন তিনি। তাই ঢাকাতেই আছেন আগামীকাল ভোট প্রদানের জন্য।
আসলাম টিবিএসকে বলেন, "আজ ঢাকার রাস্তা একেবারেই ফাঁকা। কোনও যানজট নেই৷ গতকাল সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যাত্রী ছিলো রাস্তায়। আজ খুবই অল্পসংখ্যক যাত্রী রাস্তায় বেড়িয়েছেন। গতকাল একদিনে তিন হাজার টাকার বেশি আয় হলেও আজ সকাল থেকে ৩০০ টাকাও হয়নি। এরপরও কোনও আক্ষেপ নেই৷ কারণ ১৭ বছর পরে মানুষ ভোট দিতে পারবে, আমিও পারবো। তাই আয়ের চেয়ে ভোটের উৎসবটাই বড়।"
শুধু আসলামই নন, রাজধানী ঢাকার মিরপুর, শ্যামলী, কল্যাণপুর, গাবতলি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, পল্টন, মতিঝিলসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে মানুষের সাথে কথা বলে এমন চিত্রই দেখা গেছে। সবাই ভোট দিতে উদগ্রীব হয়ে আছে, আর শেষ মুহূর্তে যে যার আসনের দিকে ছুটছেন।
সাভার থেকে নিজ ভোটার এলাকা ঢাকা-১৫তে আগামীকাল ভোট দিতে পরিবারসহ এসেছেন বিথি আক্তার। তিনি টিবিএসকে বলেন, "ঢাকা আজ ঈদের মতো ফাঁকা। বাস কখন যে সাভার থেকে মিরপুরে পৌঁছালো টেরই পেলাম না। অন্য সময় ২-৩ গুন সময় বেশি লাগে।"
তিনি আরও বলেন, "সাভারেও দেখেছি আর মিরপুরেও দেখছি, এ যেন উৎসব লেগে আছে। নির্বাচনের সময় এমন উৎসবমুখর পরিবেশ বিগত ১৫/২০ বছরে দেখিনি।"
শ্যাওড়াপাড়ায় একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন আবু ইউসুফ, ইয়াসিন রানাসহ বেশ কয়েকজন। চায়ের আড্ডার ফাঁকে জমে উঠেছিল ভোটের আলাপ। এসময় আবু ইউসুফ টিবিএসকে বলেন, "আমি চাকরি করি নারায়ণগঞ্জ কিন্তু ভোটার ঢাকার তাই একদিন আগে বন্ধুর বাসায় চলে এসেছি ভোট দেওয়ার জন্য। ২০১০ সালে ভোটার হলেও এইবারেই প্রথম ভোট দিবো৷ এবারের মতো নির্বাচনের পরিবেশ আগে কখনও দেখিনি। সবার মনেই উৎফুল্ল ভাব।"
বিজয় সরনীতে কথা হয় হাফিজুলের সাথে। তিনি তার পরিবারসহ ঘুরতে বেড়িয়েছেন। তিনি টিবিএসকে বলেন, "এবারের নির্বাচনের পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে ঈদের উৎসব চলছে। তাই ছুটির দিনে ঘুরতে এসেছি। আগামীকাল পরিবারের সবাইকে নিয়ে উৎসবের মতোই ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবো।"
ফার্মগেটে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন হুমায়রা বেগম। তিনি টিবিএসকে বলেন, "পরিবারের সবাই মিলে গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর যাচ্ছি। গতকাল কোনও গাড়ির সিট পাইনি তাই আজকে যাচ্ছি। এবারের এই উৎসবমুখর ভোট কোনভাবেই মিস করতে চাচ্ছি না। আমরা চাই সুষ্ঠু পরিবেশেই নির্বাচন সম্পন্ন হোক।"
শেকড় পরিবহনের হেলপার রাজু টিবিএসকে বলেন, "আজ রাস্তায় লোকজনের চাপ কম, রাস্তায় গাড়িও কম। গতকাল অনেক গাড়িই রিজার্ভ ভাড়ায় ঢাকার বাহিরে চলে গেছে। গতকাল যাত্রীর চাপের কারনে ভাড়া একটু বেশি নিয়েছি। সবার মতো ভোট তো আমাদের জন্যও উৎসব। তবে আজ ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে না।
