ভোট পর্যবেক্ষণ করতে এসেছেন ৩৯৪ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ বিদেশি সাংবাদিক
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট পর্যবেক্ষণ করতে অন্তত ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক বাংলাদেশে পৌঁছেছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ৮০ জন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, ২৩৯ জন দ্বিপাক্ষিক দেশ থেকে আগত (যাদের মধ্যে স্বতন্ত্র ইউরোপীয় পর্যবেক্ষকরাও রয়েছেন) এবং ৫১ জন বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।
আসন্ন নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর আগে দ্বাদশ, একাদশ ও দশম জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছিলেন যথাক্রমে ১৫৮, ১২৫ ও মাত্র চারজন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক।
প্রধান সংস্থাগুলোর মধ্যে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সচিবালয় থেকে ২৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে ১৯ জন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) থেকে একজন পর্যবেক্ষক পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য সংস্থার মধ্যে রয়েছে— অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি) থেকে দুইজন, ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অফ এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিস (আইসিএপিপি) থেকে দুইজন এবং ইউরোপিয়ান এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিস থেকে একজন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়াও ২১টি দেশ থেকে পর্যবেক্ষকরা আসছেন। এর মধ্যে রয়েছে— পাকিস্তান (৮), ভুটান (২), শ্রীলঙ্কা (১১), নেপাল (১), ইন্দোনেশিয়া (৩), ফিলিপাইন (২), মালয়েশিয়া (৬), জর্ডান (২), তুরস্ক (১৩), ইরান (৩), জর্জিয়া (২), রাশিয়া (২), চীন (৩), জাপান (৪), দক্ষিণ কোরিয়া (২), কিরগিজস্তান (২), উজবেকিস্তান (২), দক্ষিণ আফ্রিকা (২) এবং নাইজেরিয়া (৪)।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের মতো সংস্থার ৫১ জন পর্যবেক্ষক ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচন দেখবেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সফরের সমন্বয়ে সহায়তাকারী সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোর্শেদ বলেন, 'বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার পক্ষ থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানোর সাড়ায় আমরা অভিভূত।' তিনি আরও বলেন, 'এটি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন।'
তিনি যোগ করেন, 'পর্যবেক্ষকদের সংখ্যার বাইরেও তাদের যোগ্যতা বিশেষভাবে উৎসাহব্যঞ্জক। অনেক পর্যবেক্ষক বিশ্বজুড়ে নির্বাচন দেখার ব্যাপক অভিজ্ঞতা এবং উচ্চ যোগ্যতা রাখেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আশ্বস্তকর।'
উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আদ্দো; ভুটানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডেকি পেমা; বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেহমেত ভাকুর এরকুল; যুক্তরাজ্যের হাউস অফ লর্ডসের সাবেক সরকারি ডেপুটি চিফ হুইপ লর্ড রিচার্ড নিউবি; মালয়েশিয়ার নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা রামলান বির হারুন এবং ইরানের সংসদ সদস্য বেহনাম সাইদি।
৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ২,০০০-এরও বেশি প্রার্থী সংসদীয় আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে একই সময়ে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
