বগুড়ায় জামায়াতের হামলায় বিএনপি নেতার ‘চোখ হারানোর’ অভিযোগ, খবর শুনে মায়ের মৃত্যু
সোমবার রাতে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এ সংঘর্ষে স্থানীয় এক নেতা একটি চোখ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
আহত মাসুদ রানা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন এখন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিএনপি আরও দাবি করেছে, একই ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ও মাসুদের ছোট ভাই রবিউল ইসলামও গুরুতর আহত হয়েছেন।
বিএনপি নেতারা বলেন, সংঘর্ষের সময় মাসুদের ডান চোখ উপড়ে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, তার চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে; তবে চোখের ক্ষতির সঠিক ধরন সম্পর্কে তারা বিস্তারিত জানায়নি।
থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিএনপি কর্মীদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে ভোট কেনার অভিযোগে দুজনকে আটক করার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ছেলের চোখে হারানোর কথা জানার পরপরই মাসুদের মা, ৬৫ বছর বয়সি রাবেয়া বেওয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর পর গতকাল বিকেলে তিনি নিজ বাড়িতে মারা যান। রাতে গ্রামের বাড়িতে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে গতকাল বগুড়া প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ও জামায়াত নেতারা ঘটনার পাল্টাপাল্টি বিবরণ তুলে ধরেন।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-৪ আসনের দলীয় প্রার্থী মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, জামায়াত প্রার্থীর সমর্থনে ভোট কেনার অভিযোগে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে বিএনপি কর্মীরা আটক করার পর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
তিনি বলেন, সাবেক আওয়ামী লীগ কর্মী আব্দুল মজিদ—যিনি এখন জামায়াতের হয়ে কাজ করছেন—জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে পারশুন গ্রামে ভোটারদের মধ্যে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে টাকা বিতরণ করতে গিয়েছিলেন।
মোশাররফ দাবি করেন, বিএনপি কর্মীরা দুজনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশকে খবর দেয়। তবে পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেলে শত শত জামায়াত সমর্থক সেখানে পৌঁছে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালান। তারা ভাঙচুর করেন এবং মজিদসহ দুইজনকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
মোশাররফ অভিযোগ করেন, 'জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মাসুদকে মারধর করেন, তার একটি চোখ উপড়ে ফেলেন এবং তার ভাইকেও মারধর করেছেন। মাসুদ বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন, তার একটি চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে।'
তিনি বলেন, হামলার পর মাসুদকে তার স্ত্রী সালমা বেগম ও কলেজপড়ুয়া মেয়ে মীম আকতার হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক তার ডান চোখ হারানোর কথা জানান। সালমা মোবাইল ফোনে বিষয়টি রাবেয়া বেওয়াকে জানান। ছেলের চোখে হারানোর কথা জানার পরপরই রাবেয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মারা যান।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তোলেন মোশাররফ।
তবে বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের প্রায় এক ঘণ্টা পর প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন বগুড়া-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল।
ফয়সাল দাবি করেন, 'জুলাই যোদ্ধা' আসাদুল্লাহ আল গালিব ও ফারুক নামের এক ব্যক্তিসহ বেশ কয়েকজন জামায়াত কর্মীকে বিএনপি সমর্থকরা আক্রমণ করেন এবং বেআইনিভাবে আটকে রাখেন।
তার দাবি, গণভোটের প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপি কর্মীরা গালিবের ওপর হামলা করেন। এছাড়া ফারুকসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালান মাসুদ রানা ও তার ভাই রবিউল ইসলাম।
'আমাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে, মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একজন বিএনপি নেতার বাড়িতে নিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল,' বলেন ফয়সাল।
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহাদত হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থালে যাওয়ার আগেই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। 'পরে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়েছে।'
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক মঞ্জুর এ মুর্শেদ বলেন, 'মাসুদ রানার চোখে গুরুতর আঘাত রয়েছে। আরও কয়েকজন ভর্তি রয়েছেন। মাসুদের চোখের আঘাত গুরুতর।'
