দেশবাসীর কাছে দুঃখপ্রকাশ করছি, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ব: তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে আজ সোমবার বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীর কাছে অতীতের অনিচ্ছাকৃত ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, 'বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আমি এই স্বল্প সময়ে যতটুকু সম্ভব আপনাদের কাছে ছুটে গিয়েছি; আমি আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছি। বিএনপির প্রতি আপনাদের আবেগ ও ভালোবাসা উপলব্ধি করেছি। ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির প্রতি আবারও আপনাদের ভালোবাসা প্রকাশের দিন।'
ভাষণের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, 'অতীতে আপনাদের সমর্থনে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে সেই সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েছে। সেজন্য আমি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্জনগুলোকে অবলম্বন করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনের জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে আবারও আমি আপনাদের সমর্থন চাই।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি দেশ ও জনগণের জন্য আপনার এবং আপনার পরিবারের সদস্যের জন্য যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষে আপনাদের সমর্থন এবং আপনাদের ভোট চাই।'
রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও সুশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, 'প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কাছে রাষ্ট্র ও সরকারকে দায়বদ্ধ রাখার কোনো বিকল্প নেই। রাষ্ট্র পরিচালনায় আপনাদের সমর্থন পেলে দেশের আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।'
দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, 'দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে যতটা কঠোর হওয়া যায়, বিএনপি সরকার ইনশাআল্লাহ ততটাই কঠোর হবে। দেশে পুনরায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। দেশবাসীর কাছে এটি আমার অঙ্গীকার; বিএনপির অঙ্গীকার। আপনাদের কাছে আমার অঙ্গীকারের কারণ, আপনারাই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।'
তারেক রহমান বলেন, '১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কে কোনো ধর্মের এটি কোনো জিজ্ঞাসা ছিল না। ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধেও কে কোন ধর্মের, কার কী ধর্মীয় পরিচয়, এটি কোনো জিজ্ঞাসা ছিল না। আমরা মনে করি ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। প্রতিটি ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও রীতি অনুযায়ী যার যার ধর্ম পালন করবেন। এটি একটি আধুনিক সভ্য সমাজের রীতি। সব নাগরিকের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।'
