সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দারের পদত্যাগ
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দার পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগপত্র সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এই তথ্য জানিয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিচারপতি নাইমা হায়দার গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিজস্ব স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এরপর প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় অনিয়ম ও ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখার অভিযোগে বিচারপতি নাইমা হায়দারকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তার বিষয়ে তদন্ত চলাকালীন তিনি পদত্যাগ করেছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি হাইকোর্ট বিভাগের আরও তিনজন বিচারপতিকে অপসারণ করেছেন। ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর হাইকোর্ট বিভাগের ১২ বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। এদের মধ্যে ৯ জন এখন দায়িত্বে নেই। কেউ কেউ বাধ্যতামূলক অবসরে চলে গেছেন, কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন এবং কেউ অবসরে রয়েছেন। বাকি তিনজন পদে থাকলেও বেঞ্চের দায়িত্বে নিয়োজিত নন।
এছাড়া, চলতি মাসে বিচারপতি এম আর হাসানকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের দুই বিচারপতি স্বেচ্ছায় কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন বিচারপতি মামনুন রহমান, যিনি ইতোমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন।
বিচারপতি নাইমা হায়দার সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীর মেয়ে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। এছাড়া কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কেল বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর আইন ডিগ্রি লাভ করেছেন।
১৯৮৯ সালে তিনি জেলা আদালতে আইন পেশায় যোগ দেন। ১৯৯৩ সালে হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে এবং ২০০৪ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৯ সালের ৬ জুন হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি এবং ২০১১ সালের ৬ জুন স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
