পটুয়াখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুনরায় দরপত্র আহ্বানে আইনগত বাধা নেই: সুপ্রিম কোর্ট
পটুয়াখালীর ১,৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পাঁচ বছরের জন্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার কয়লা সরবরাহের টেন্ডার পেলেও সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইয়ংতাই এনার্জি পিটিই লিমিটেড শেষ পর্যন্ত সরবরাহ করতে পারবে না বলে রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে এই রায় দেন।
এই আদেশের ফলে পুনরায় দরপত্র আহ্বানে আর কোনো আইনগত বাধা থাকলো না।
গত বছরের ১১ জুলাই দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড 'হাউ টেন্ডার রুলস অ্যান্ড আ লোন বিডার স্টল আ ২.৫ বিলিয়ন ডলারের পাওয়ার প্ল্যান্ট' শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম পাওয়ায় ইয়ংতাই এনার্জির টেন্ডার বাতিল করে এবং নতুন করে দরপত্র আহ্বানের নির্দেশ দেয় ওই কমিটি।
এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইয়ংতাই এনার্জি হাইকোর্টে রিট করলে হাইকোর্ট সরকারের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে এবং তাদের টেন্ডার প্রক্রিয়া চালু রাখতে নির্দেশ দেয়।
আরপিসিএলের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদ মাহসিব হোসেন টিবিএসকে বলেন, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করলে তা স্থগিত হয় এবং বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানো হয়। সোমবার আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করায় রি-টেন্ডারের পথে আর কোনো আইনগত বাধা নেই।
তিনি বলেন, "এখন আরপিসিএল নতুন দরপত্র প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে।"
সোমবারের শুনানিতে আরপিসিএলের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ব্যারিস্টার এম এ মাসুম এবং ইয়ংতাই এনার্জির পক্ষে ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার সাগীর খান শুনানি করেন।
এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে তিন দফা দরপত্র আহ্বান করা হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী আরপিসিএল-নরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার লিমিটেড (আরএনপিএল) এখনো দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারী নিয়োগ করতে পারেনি।
প্রতিবারই একমাত্র যোগ্য দরদাতা হিসেবে ইয়ংতাই এনার্জি সামনে আসে, যারা ধারাবাহিকভাবে এমন উচ্চমূল্য প্রস্তাব দেয়, যা প্রকল্প কর্তৃপক্ষ 'অগ্রহণযোগ্য' বলে মনে করে।
এর আগে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের জন্য ১০ লাখ টন কয়লা কেনার দরপত্রেও একমাত্র যোগ্য দরদাতা ছিল ইয়ংতাই, যারা বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার বুকিত আসাম খনি থেকে কয়লা সরবরাহ করছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দরপত্রের কঠোর শর্ত, নকশাগত জটিলতা এবং পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কার কারণে অন্যান্য সম্ভাব্য সরবরাহকারীরা প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ছে।
প্রাথমিকভাবে ২০২৫ সালের মে-জুনে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য থাকলেও ২৫৪ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই কেন্দ্রটি এখনো অচল রয়েছে, কারণ পাঁচ বছরের কয়লা সরবরাহ চুক্তি চূড়ান্ত করা যায়নি।
আরএনপিএলের কর্মকর্তারা জানান, তৃতীয় দফায় ১০টি কোম্পানি টেন্ডার নথি কিনলেও মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব জমা দেয়। এর মধ্যে কেবল ইয়ংতাই প্রযুক্তিগতভাবে যোগ্য বিবেচিত হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
