নির্বাচনে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করার জন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ব্যালট বাক্স ছিনতাই হলে বা ভোটকেন্দ্রে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং, সহকারী রিটার্নিং ও প্রিজাইডিং অফিসারসহ কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে 'ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬' সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে রংপুর বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশ দেন।
নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, 'নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং ভোট পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করতে হবে। আপনাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বই হবে এই নির্বাচনের মূল শক্তি।'
উপদেষ্টা এ সময় জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে—এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্রের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, 'নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা ও বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন দুষ্কৃতিকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত ও প্রভাবিত করতে পারে এমন যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা ও কার্যক্রম কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।'
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচনের আগের ৪ দিন নিবিড় টহল পরিচালনার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে নিবিড়ভাবে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম এবং বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস অ্যান্ড ট্রেনিং) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম। এসময় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি জানান, এবারের নির্বাচনে গতানুগতিক ব্যবস্থার বাইরে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, 'নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ, বডি ওর্ণ ক্যামেরা, সিসিটিভি ও ড্রোনসহ অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। এবারই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রায় ৯ লক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসার সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তার সঙ্গে একজন অস্ত্রধারী আনসারসহ প্রতিটি কেন্দ্রে কমপক্ষে ৫-৬ জন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। তাছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স ও টহল টিম তো থাকছেই।' তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে 'সর্বকালের শ্রেষ্ঠ নির্বাচন' উপহার দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় রংপুর বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নির্বাচন কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবির প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, 'রংপুর বিভাগের মধ্য দিয়ে আমাদের জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষ হয়েছে। এ বিভাগের প্রস্তুতি ভালো রয়েছে। রংপুর বিভাগের মানুষ অন্যান্য বিভাগের তুলনায় শান্তিপূর্ণ। তাই এ বিভাগে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।'
নির্বাচনে কারচুপির কোনো আশঙ্কা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'নির্বাচনে কারচুপির কোনো আশঙ্কা নেই। শতভাগ স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।'
