দুর্নীতির পাতা বা ডাল নয়, আমরা দুর্নীতির ঘাড় ধরে টান দেব: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ৫৪ বছরের যে রাজনীতি আমাদের মামলা-বাণিজ্য, দুর্নীতি, দখলবাজি, ফ্যাসিবাদ ও বিচারহীনতা উপহার দিয়েছে, আমরা তা পাল্টে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আল্লাহ আমাদের হায়াত দিলে ১২ তারিখ নির্বাচনের মাধ্যমে ১৩ ফেব্রুয়ারি নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হবে। এই নতুন বাংলাদেশ এখনকার চেয়ে বড় বা ছোট হবে না; এই বাংলাদেশই থাকবে, কিন্তু তার চরিত্র পাল্টে যাবে। এটি হবে একটি জনকল্যাণমূলক বাংলাদেশ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পাবলিক মাঠে এবং বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আরসি কলেজ মাঠে ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের পৃথক দুটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "অতীতে যারা নিজেদের সততার প্রমাণ দিতে পারেনি, এখন যারা দিতে পারছে না, জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার অধিকার তাদের নেই। ভোট তারাই চাইবে— যারা সমস্ত অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশের জনগণকে ভালোবাসবে। ১২ তারিখ এ দেশের জনগণ তাদেরই বেছে নেবে।"
বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে কোনো না কোনো দল এই দেশ শাসন করেছে। যারাই এসেছেন, তারা বলেছেন— কিছুই হয়নি, আমরা সব করে দেব। তারা করে দেননি বা করে দিতে পারেননি, যার সাক্ষী বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণ। জামায়াত আমীর বলেন, একটি জাতির তিনটি মৌলিক জিনিস— ভালো শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার উন্নত ব্যবস্থা আর সমাজের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ন্যায়বিচার। এই তিনটি যদি কোনো সমাজে থাকে, তাহলে তা একটি ভালো সমাজে পরিণত হয়।
দুর্নীতি ও সুশাসন প্রসঙ্গে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, "১৩ তারিখে যে নতুন সূর্য উদিত হবে, তা নতুন বাংলাদেশকে পিঠে নিয়ে উঠবে। আমাদের দুই হাতের ১০ আঙুল সবকিছু থেকে পরিচ্ছন্ন থাকবে। চাঁদাবাজি আমরা করি না, কাউকে করতেও দেব না। মামলা-বাণিজ্য আমরা করি না, কাউকে করতেও দেব না। শেয়ারবাজার লুণ্ঠন করতে দেওয়া হবে না। প্রকল্পগুলো থেকে টাকা লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করতে দেওয়া হবে না।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা দুর্নীতির পাতা আর ডাল ধরে টান দেব না, আমরা দুর্নীতির ঘাড় ধরে টান দেব।"
আইনের শাসন ও সাম্য নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "কোনো মামু-খালু দেখা হবে না। যে অপরাধে একজন সাধারণ মানুষের বিচার এবং শাস্তি হবে, সেই অপরাধ রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী করলেও তাদেরকে ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। সাধারণ নাগরিকের জন্য যে বিচার, প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের জন্য একই বিচার প্রযোজ্য হবে। এদেরকেও বিচারের আওতায় আনা হবে।"
ভোটারদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আপনাদের যত বঞ্চনা আছে, তার জন্য আপনাদের লড়তে হবে না। সব ন্যায্যতা ও ইনসাফের ভিত্তিতে আপনাদের ঘরে এসে পৌঁছে দেওয়া হবে। জনগণকে তাদের পাশে থেকে সেবা দেওয়ার জন্যই আমরা কাজ করব।
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, "আজ এখানে ১১ দলের নেতৃবৃন্দ আছেন। শহীদ পরিবারের সদস্যরা আছেন। যারা আমাদের নতুন বাংলাদেশ এনে দিয়েছেন, তাদের লাশ ও রক্ত আমাদের কারও ঘাড়ে, হাতের ওপরে। এই ভার আমাদের বহন করতে হবে। এই আমানত আমাদের রক্ষা করতে হবে।"
গণভোট ও নির্বাচনি বৈতরণী নিয়ে তিনি বলেন, শহীদরা যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চেয়েছিল, তা বাস্তবায়নের জন্য দুটি ভোট দিতে হবে। একটি হলো গণভোট। গণভোটে 'হ্যাঁ' দিতে হবে। 'হ্যাঁ' মানে আজাদি, আর 'না' মানে গোলামি। আর আরেকটি ভোট হলো ইনসাফ কায়েমের সরকার গঠন।
মেহেন্দিগঞ্জের জনসভায় ১১ দলীয় জোটের বরিশাল-৩ আসনের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ স্থানীয় জোট নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাউফলের জনসভায় জেলা ও উপজেলা জামায়াত এবং জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
