ইশতেহার: 'বন্ধু আছে, কোনো প্রভু নেই' নীতির আলোকে অন্য রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা বিএনপির
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখা তুলে ধরেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে 'সবার আগে বাংলাদেশ'।
আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ইশতেহারে পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, 'বিএনপির পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হলো 'সবার আগে বাংলাদেশ'। 'বন্ধু আছে, কোনো প্রভু নেই'-এই নীতির আলোকে সমতা ও আত্মমর্যাদার ভিত্তিতে অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না এবং নিজের বিষয়েও হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না।'
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, 'জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে অত্যাধুনিক, ক্ষিপ্র এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ করে 'চতুর্মাত্রিক' সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।' পাশাপাশি একটি শক্তিশালী 'ক্রেডিবল ডিটারেন্দ্র' ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে যাতে যেকোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করা যায়।
সশস্ত্র বাহিনীকে সকল রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে সম্পূর্ণ পেশাদার ও সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করার অঙ্গীকারও করেছে দলটি।
জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত পরিকল্পনার বিষয়ে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়, 'বাংলাদেশ ফাস্ট' নীতির ভিত্তিতে একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল এবং আধুনিক 'প্রতিরক্ষা ডকট্রিন' প্রণয়ন ও একটি 'জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল' প্রতিষ্ঠা করা হবে।'
একইসঙ্গে ইশতেহারে গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপযোগী সুদৃঢ় মিলিটারি-সিভিল রিলেশন (সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক) স্থাপন এবং সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতির অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে বলা হয়েছে, 'সেনাবাহিনীর স্ট্র্যাটেজিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্লু-ইকোনমির সর্বোচ্চ সুবিধা ও নৌ পথ নিশ্চিত নিরাপদ রাখার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান' করা হবে।
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও শ্রমবাজার নিয়ে বিএনপি জানায়, 'বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে শ্রম ও অভিবাসন কূটনীতি জোরদার করা হবে।'
এছাড়া আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধান ও আঞ্চলিক অধিকার আদায়ে দলটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, 'আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে নিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা হবে' এবং 'পদ্মা ও তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
