১৮ মাসে ১১৬ অধ্যাদেশ, সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৮৩ শতাংশের বেশি: প্রেস সচিব
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৮ মাসে ব্যাপক প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে মোট ১১৬টি অধ্যাদেশ জারি করেছে। সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৮৩ শতাংশের বেশি।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম এসব তথ্য তুলে ধরেন।
শফিকুল আলম বলেন, "আজকের বৈঠকে ১১টি নির্ধারিত আলোচ্যসূচির পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনির্ধারিত বিষয়ে আলোচনা ও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।" তিনি জানান, বৈঠকে আইন, অধ্যাদেশ, নীতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোর একটি বিস্তারিত সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়।
প্রেস সচিব জানান, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত উপদেষ্টা পরিষদ মোট ৬৮টি নিয়মিত বৈঠক করেছে এবং ৫২৬টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, "সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে ৪৩৯টি ইতিমধ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে, যা বাস্তবায়নের হার হিসেবে ৮৩.৪৬ শতাংশ। এটি পূর্ববর্তী সরকারগুলোর তুলনায় একটি রেকর্ড।"
শফিকুল আলম আরও জানান যে বর্তমানে আরও ১৬টি অধ্যাদেশ চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যার মধ্যে ৩টি ইতিমধ্যেই নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা শীঘ্রই ১১৬টি অধ্যাদেশের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করব। একবার এই তালিকা জনসমক্ষে এলে এটি স্পষ্ট হবে যে এই সংস্কারগুলো জনগণের জীবন এবং বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে কতটা গভীরভাবে বদলে দিতে যাচ্ছে।"
তিনি উল্লেখ করেন যে এই সময়ে ১৪টি নীতি, কৌশল এবং কর্মপরিকল্পনা জারি করা হয়েছে এবং এর পাশাপাশি ১৪টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৈঠকে ৩৪৮টি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়, যা সরকারের আইন ও নীতিগত কার্যক্রমের একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরে।
সামাজিক সুরক্ষা ও আইন সংস্কার
বৈঠকে 'পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬' এবং 'যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬'-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। শফিকুল আলম আশা প্রকাশ করে বলেন, "এই দুটি অধ্যাদেশ সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করতে এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।" এছাড়া, 'বাংলাদেশ শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন অধ্যাদেশ ২০২৬'-এর খসড়াও বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে।
ডাক সেবা অধ্যাদেশ
প্রেস সচিব জানান, 'ডাক সেবা অধ্যাদেশ ২০২৬'-এর চূড়ান্ত অনুমোদন এদিনের সভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, কারণ এটি ১৮৯৮ সালের ঔপনিবেশিক আমলের 'পোস্ট অফিস অ্যাক্ট'কে রহিত করবে। নতুন এই আইনের অধীনে একটি 'ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবস্থাপনা' পদ্ধতি চালু করা হবে, যাতে ভাসমান জনগোষ্ঠীর জন্য স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য ঠিকানা নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া পোস্টাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পোস্টাল সেভিংস এবং মানি অর্ডারের মতো আর্থিক সেবাগুলোকে এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে একটি স্পষ্ট আইনি ম্যান্ডেট দেওয়া হয়েছে।
ছুটি ও অফিস সময়সূচি
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে অফিসের সময়সূচি নির্ধারণের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন উপদেষ্টারা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রমজানে অফিসের সময় হবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। দুপুর ১টা থেকে ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামাজের জন্য ১৫ মিনি৩টের বিরতি থাকবে।
অন্যদিকে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি যে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, তা কারখানা মালিকরা চাইলে পরবর্তীতে অন্য কোনো দিনে অতিরিক্ত একদিন কাজ করিয়ে পুষিয়ে নিতে পারবেন। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) অনুরোধের প্রেক্ষিতে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।
