জনপ্রশাসন সংস্কারে ১৮ ‘অতি জরুরি’ সুপারিশের মধ্যে শৌচাগার সংস্কারসহ মাত্র ৩টি বাস্তবায়িত: টিআইবি
জনপ্রশাসনে বিশৃঙ্খলা, সিদ্ধান্তহীনতা ও আমলাতন্ত্রের নিজের স্বার্থরক্ষার প্রবণতা চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ২০৮টি সুপারিশের মধ্যে মাত্র ১৮টি 'অতি জরুরি' হিসেবে চিহ্নিত করলেও শৌচাগার সংস্কারসহ মাত্র তিনটি বাস্তবায়িত হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) টিআইবির কনফারেন্স রুমে 'কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি' শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
টিআইবি উল্লেখ করে, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ২০৮টি সুপারিশের মধ্যে মাত্র ১৮টি 'অতি জরুরি' হিসেবে চিহ্নিত করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবায়ন করা হয়েছে মাত্র তিনটি—শৌচাগার সংস্কার, ভেরিফিকেশন ছাড়া পাসপোর্ট প্রাপ্তি ও গণশুনানি।
সংস্কার কমিশনের অনেক সুপারিশ বাদ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজেদের পছন্দমতো প্রস্তাব যুক্ত করে আমলাতন্ত্রের স্বার্থরক্ষার অভিযোগও করেছে সংস্থাটি।
প্রশাসনে জনবল কাঠামো ও পদোন্নতি নিয়ে বিশৃঙ্খলার চিত্রও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বর্তমানে অনুমোদিত ৩ হাজার ৬৯৬টি পদের বিপরীতে প্রশাসনে প্রায় দ্বিগুণ, অর্থাৎ ৬ হাজার ৫৩৫ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। পদোন্নতির ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও যোগ্যতার চেয়ে 'বঞ্চিত' হওয়া এবং রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এমনকি পদোন্নতিপ্রাপ্তদের অনেকের বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতি, অনিয়ম, বিভাগীয় মামলায় শাস্তি এবং বিগত সরকারের অপকর্মের সহযোগী হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রশাসনকে দলীয়মুক্ত করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা দেখা গেছে। কর্তৃত্ববাদী আমলের একচেটিয়া দলীয়করণের স্থলে এখন প্রশাসনে 'দ্বি-দলীয় আধিপত্য' প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া জনপ্রশাসন ক্যাডারের প্রভাব ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় অব্যাহত থাকায় আন্তঃক্যাডার ও গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য বাড়ছে।
সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, সংস্কারের বিরোধিতা এবং নিজেদের সুযোগ-সুবিধা আদায়ের ক্ষেত্রে প্রশাসন স্বার্থরক্ষাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে।
