২৪৯ হাই-প্রোফাইল ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়: টিআইবি
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২৪৯ জন 'হাই-প্রোফাইল' বা শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করলেও এর অগ্রগতি এখনো আশাব্যঞ্জক নয় বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটির গবেষণায় বলা হয়েছে, অনিয়ম ও দুর্নীতি দমন এবং অর্থপাচার রোধে সরকারের উদ্যোগে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) টিআইবির কনফারেন্স রুমে 'কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি' শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সংস্কার নিয়ে জনমনে উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকলেও সরকার ও দুদক সংস্কারে 'আশু করণীয়' পদক্ষেপ বাস্তবায়নে এবং সামগ্রিকভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রস্তাবিত অন্যান্য উদ্যোগ গ্রহণে পিছিয়ে রয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, দুদকের ভেতরে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে ২৪৯ জন শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হলেও তার বাস্তব অগ্রগতি আশানুরূপ হয়নি।
টিআইবি আরও বলেছে, সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত দক্ষতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সমন্বয়ের অভাব এবং আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা মোকাবিলায় উপযুক্ত কৌশল না থাকায় পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকার যে আশাবাদী ঘোষণা দিয়েছিল, তার বাস্তবায়ন হয়নি।
এছাড়া কর ফাঁকি, বড় ধরনের দুর্নীতি ও অর্থপাচারের পাশাপাশি সেবাখাতে ঘুষ আদায়, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মামলা-বাণিজ্য, গ্রেপ্তার-বাণিজ্য ও জামিন-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি প্রতিরোধেও কোনো দৃশ্যমান ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
টিআইবির গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের আয় ও সম্পদের বিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশের প্রতিশ্রুতি ও নীতিমালা থাকলেও এখন পর্যন্ত কারও আয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নেওয়া হলেও তা যাচাই-বাছাইয়ের কোনো উদ্যোগ না থাকায় নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।
পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আগের তুলনায় দুদকের কার্যক্রমে কিছু দৃশ্যমান সক্রিয়তা দেখা গেলেও পরিস্থিতির গুণগত উন্নয়ন এখনো হয়নি। দুদক সরকারের, বিশেষ করে আমলাতান্ত্রিক প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারেনি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। মামলা দায়ের ও প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগও রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে এখনো পুরনো ধারা অনুসরণ করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ক্ষমতার বাইরে থাকা ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারের প্রশ্নবিদ্ধ পদক্ষেপের সহায়ক হিসেবে দুদকের ব্যবহারের দৃষ্টান্তও রয়েছে।
এছাড়া, দুদক সংস্কার কমিশনের 'আশু করণীয়' সুপারিশ সরকার বা দুদকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত গুরুত্ব পায়নি বলে জানিয়েছে টিআইবি। অন্যদিকে, দুদক ও সরকারি আমলাতন্ত্রের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব বজায় রেখে দুদকের পূর্ণ স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশগুলো উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ বিষয়ে দুদকের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কোনো দ্বিমত ছিল না এবং জুলাই সনদ অনুযায়ী প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সম্মতি ছিল, যা সরকার ও দুদক—উভয়েরই জানা ছিল বলে জানিয়েছে টিআইবি।
