২০২৫ সালে প্রবাসী কর্মীদের রেকর্ড ২,০৫৪ অভিযোগ নিষ্পত্তি; ক্ষতিপূরণ আদায় ৯.৯২ কোটি টাকা
প্রবাসী কর্মীদের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ২০২৫ সালে সেরা সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুসারে, গত বছর রেকর্ড ২ হাজার ৫৪টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে, আর ক্ষতিপূরণ হিসেবে কর্মীদের জন্য আদায় করা হয়েছে প্রায় ৯.৯২ কোটি টাকা।
বিদেশে কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির সময়ে এ মাইলফলক অর্জিত হলো। ২০২৫ সালে ১১.২৮ লাখের বেশি কর্মী বিদেশে গেছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। এই কর্মীদের প্রধান গন্তব্য ছিল সৌদি আরব।
বিএমইটির তথ্যমতে, ২০২৪ সালে প্রবাসী কর্মীদের মোট অভিযোগের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৭৫৫টি, যা ২০২৫ সালে কমে ৪ হাজার ৯০০-তে নেমেছে। তবে অভিযোগের সংখ্যা কমলেও প্রতিকার পাওয়ার হার বেড়েছে। ২০২৪ সালে ১ হাজার ৭৫৫টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করে ৬.৩২ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছিল।
কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত তদারকি, কার্যকর মধ্যস্থতা ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ বেড়েছে। সেইসঙ্গে নিষ্পত্তি হওয়া প্রতিটি ঘটনায় গড় ক্ষতিপূরণের পরিমাণও বেড়েছে। ক্ষতিপূরণ আদায়ের ধীরগতি নিয়ে মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা করে আসছিলেন।
রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, 'বিএমইটিতে সরাসরি দাখিল করা অভিযোগগুলো দ্রুত গ্রহণের জন্য একটি মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখা খোলা হয়েছে। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযোগ নিষ্পত্তির হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।'
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সংখ্যা কম হওয়া মানেই নির্যাতনের ঘটনা কমে যাওয়া নয়। অনেক শ্রমিক এখনও নানা ধরনের শোষণের শিকার হচ্ছেন, কিন্তু ভয়, সচেতনতার অভাব, কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ কম থাকা কিংবা প্রবাসে অবস্থান করার কারণে তারা অভিযোগ করতে পারছেন না।
কর্মীদের ওপর শোষণ ও নির্যাতনের সাধারণ ধরনগুলোর মধ্যে রয়েছে—মজুরি আত্মসাৎ, বেতন দিতে দেরি বা একেবারেই না দেওয়া, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, অনিয়মিত কর্মপরিবেশ, চুক্তির শর্ত পরিবর্তন ও শারীরিক নির্যাতন। এছাড়াও বিদেশ যাওয়ার প্রলোভনে পরে দালালের মাধ্যমে প্রতারণা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাচারের শিকারও হচ্ছেন অনেকে।
বিএমইটির নথির বাইরেও অনেক বিরোধ স্থানীয় সালিশ বা এনজিওর মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিকভাবে মীমাংসা হয়ে যায়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত অভিযোগগুলো একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে অভিযোগকারী ও রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শুনানি, ওয়ার্ক পারমিটসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশের—বিশেষ করে সৌদি আরব—নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করা।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরও জোরালো প্রতিরোধমূলক তদারকি, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য কঠোর নীতিমালা এবং অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ করা অত্যন্ত জরুরি। তারা বলছেন, ২০২৫ সালের এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে হলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।
