জনতা ব্যাংকের ১৩৬ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা: রিমান্ডে সালমান এফ রহমানকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ
ঋণের নামে জনতা ব্যাংক থেকে ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে আসা হয়। সংস্থার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ও সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
এর আগে, দুদকের উপ-পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সালমান এফ রহমানের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত এই আদেশ প্রদান করেছিলেন।
দুদকের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক পিএলসি-র লোকাল অফিস (ঢাকা) থেকে 'স্কাইনেট অ্যাপারেলস লিমিটেড' নামের একটি সদ্য প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে রফতানি উন্নয়ন তহবিল সুবিধাসহ বিপুল অংকের ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হয়। দুদক জানিয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের পূর্বে কোনো ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ছিল না।
অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, বেক্সিমকো গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ও বিবি এলসির মাধ্যমে কাগুজে আমদানি-রফতানি দেখিয়ে 'অ্যাকোমোডেশন বিল' তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে ১৫ লক্ষ ৫৫ হাজার ৪৬৫ দশমিক ৯৫ মার্কিন ডলার রফতানি মূল্য দেশে না এনে মোট ১ কোটি ৪৭ লক্ষ ২৯ হাজার ৩৪০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৩৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তে আরও প্রকাশ পেয়েছে যে, আত্মসাৎকৃত এই অর্থ সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও ভাতিজা আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে। তারাও এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেক্সিমকো গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে এ পর্যন্ত মোট ১১টি মামলা করা হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। প্রতিটি মামলাতেই সালমান এফ রহমান প্রধান এজাহারনামীয় আসামি। এর মধ্যে ১০টি মামলায় জনতা ব্যাংক থেকে বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে লোকাল ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মালামাল সরবরাহ দেখিয়ে মোট ৪ হাজার ৯৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬৬ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
দুদক জানায়, এই লোকাল ব্যাক-টু-ব্যাক এলসিগুলো যে সেলস কন্ট্রাক্টের বিপরীতে ইস্যু করা হয়েছিল, সেগুলো ছিল দুবাই ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের। প্রতিষ্ঠানটি আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের যৌথ মালিকানাধীন (তারা যথাক্রমে সালমান এফ রহমান ও তার বড় ভাই এ. এস. এফ. রহমানের সন্তান)। এছাড়া অপর মামলাটি করা হয়েছে 'আইএফআইসি আমার বন্ড' স্কিমের মাধ্যমে গ্রাহকদের ৮০০ কোটি টাকা বেক্সিমকো ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর ও আত্মসাতের অভিযোগে। সব মিলিয়ে সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে চলমান ১১টি মামলায় সংশ্লিষ্ট অর্থের মোট পরিমাণ ৫ হাজার ৭৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬৬ টাকা।
