জনতা ব্যাংকের ১৩৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সালমান এফ রহমানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার অনুমোদন
জনতা ব্যাংক পিএলসি থেকে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) সহ বিভিন্ন ঋণ সুবিধা নিয়ে জালিয়াতি ও মানিলন্ডারিংয়ের (অর্থপাচার) অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজুর অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর লোকাল অফিস (ঢাকা) থেকে 'কোজি এপারেলস লিমিটেড' নামক একটি নবসৃষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইডিএফ সুবিধাসহ ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণ করেন। দুদকের অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের ব্যবসা পরিচালনার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, ঋণ গ্রহণের পর আসামিরা বিবি এলসির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে মালামাল আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে 'অ্যাকমোডেশন বিল' (কাল্পনিক বা ভুয়া বিল) তৈরি করেন। এর মাধ্যমে ১৯ লাখ ৬৪ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার মূল্যের রপ্তানি আয়ের অর্থ দেশে প্রত্যাবাসন না করে এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ৪৬ লাখ ৯৬ হাজার ৩৩২ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার আত্মসাৎ করা হয়েছে।
২০২২ সালের গড় বিনিময় হার অনুযায়ী, এই আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টাকা বলে দুদক জানিয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এই আত্মসাৎকৃত অর্থ আসামিরা নিজেদের মধ্যে হস্তান্তর, রূপান্তর ও লেয়ারিংয়ের (স্তরে স্তরে স্থানান্তর) মাধ্যমে মানিলন্ডারিং বা অর্থপাচার করেছেন।
এই জালিয়াতির ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭(এ) ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) এর ৪ ধারায় মামলা রুজুর অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
