সেনাবাহিনীতে ‘ইউএভি ব্রিগেড’ ও বছরে ৩০ হাজার তরুণকে সামরিক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব এনসিপির
আধুনিক যুদ্ধ ও গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়াতে সেনাবাহিনীতে একটি পূর্ণাঙ্গ ইউএভি ব্রিগেড গঠন এবং গণপ্রতিরক্ষার দর্শনের ভিত্তিতে প্রতি বছর ৩০ হাজার তরুণকে সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদানের অঙ্গীকার করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সাথে আকাশ প্রতিরক্ষা সুসংহত করতে অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম অর্জনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ইশতেহারে তুলে ধরেছে দলটি।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এনসিপির 'তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার' প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশগুলো উপস্থাপন করেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
এনসিপির ইশতেহারে জানানো হয়েছে, আধুনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীতে একটি বিশেষায়িত ইউএভি ব্রিগেড গঠন করা হবে। এই ব্রিগেডে আক্রমণাত্মক ও নজরদারিভিত্তিক উভয় ধরনের সক্ষমতা থাকবে। প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, এতে ১০টি স্ট্রাইক ইউএভি সংযুক্ত করা হবে, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। পাশাপাশি ৩০টি আইএসআর ইউএভি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের সীমান্ত এলাকা, উপকূলীয় অঞ্চল এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা ও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ১০০ থেকে ২০০টি শর্ট রেঞ্জ ড্রোন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ড্রোন সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণে সহায়তা করবে। নিয়মিত টহল ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তার জন্য এই ব্রিগেডে আরও ২ হাজার পারসোনেল নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই ড্রোন ব্রিগেড গঠনে আগামী পাঁচ বছরে আনুমানিক ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে এবং এতে দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে এনসিপি প্রতি বছর ৩০ হাজার তরুণকে বেসিক অস্ত্র চালনা ও মিলিটারি ট্যাকটিক্স প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইশতেহারে বলা হয়েছে, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিন ধরনের জনবল গড়ে তোলা হবে—রিজার্ভ ফোর্স, কমব্যাট-রেডি ইউনিট এবং দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ইউনিট।
প্রস্তাব অনুযায়ী, এই প্রশিক্ষণ হবে ১০ সপ্তাহব্যাপী এবং রিজার্ভিস্টদের জন্য বছরে দুই সপ্তাহ করে 'রিফ্রেশার ট্রেনিং'-এর ব্যবস্থা থাকবে। এর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হচ্ছে প্রচলিত সশস্ত্র বাহিনীর দ্বিগুণ আকারের একটি শক্তিশালী রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত করা। এই প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণে এককালীন প্রায় ৫০০ কোটি টাকা এবং বার্ষিক প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করা গেলে এই ব্যয় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমানো সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মিডিয়াম পাওয়ার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যাটারি সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়েছে এনসিপি। প্রাথমিকভাবে বিদেশি প্রযুক্তি গ্রহণ করা হলেও ভবিষ্যতে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এগুলো স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই খাতে পাঁচ বছরে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা (LY-80) থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত।
এনসিপি মনে করে, প্রযুক্তিনির্ভর এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং আধুনিক যুদ্ধ মোকাবিলায় দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে।
