আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিতে চাই না, দেশ গড়ার কারিগরের হাত গড়ে দিতে চাই: শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না, আমরা দেশ গড়ার কারিগরের হাত গড়ে দিতে চাই। ১১ দলের প্রার্থীদের অধিকাংশের বয়স ৪৫-এর নিচে, যা বার্তা দিচ্ছে আগামীর বাংলাদেশ হবে যুব সমাজের।'
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোটের আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় বিগত নির্বাচনে সুবর্ণচরের সেই আলোচিত ও নির্যাতিতা মায়ের স্মৃতি চারণ করে জামায়াত আমির বলেন, 'সুবর্ণচরে একজন দুখিনী মা আছেন, যাকে হায়েনারা কষ্ট দিয়েছিল ধানের শীষে ভোট দেয়ার কারণে। আমরা নির্বাচিত হলে ওই মায়ের সম্মানে সেখানে পৌরসভা করব।'
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি একটি ন্যায়নিষ্ঠ প্রশাসনিক ব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'আমরা একটি সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। পে-কমিশনের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে যাতে তাদের টেবিলের নিচে হাত ঢুকাতে না হয়। এরপরও যদি কেউ সততার রাস্তা ছেড়ে দেয়, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।' একইসঙ্গে চাঁদাবাজদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, 'এখনই চাঁদাবাজি ছেড়ে দাও, হারাম পেটে ঢুকিও না। যদি না শোনো, তবে আমাদের গরম মূর্তি দেখতে বাধ্য হবে।'
জনসভায় তিনি নোয়াখালীর বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। নোয়াখালী-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফুল্লাহ, নোয়াখালী-৩ আসনের মাওলানা বুরহান উদ্দিন, নোয়াখালী-৪ আসনের মো. ইসহাক খন্দকার এবং নোয়াখালী-৫ আসনের বেলায়েত হোসেনের হাতে 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীক তুলে দেন। এছাড়া নোয়াখালী-২ আসনের সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া ও নোয়াখালী-৬ আসনের প্রার্থীর হাতে জোটের পক্ষ থেকে 'শাপলা কলি' প্রতীক তুলে দেয়া হয়।
এর আগে সকাল ৯টায় জেলা জামায়াতের আমির ও নোয়াখালী-৪ আসনের প্রার্থী মো. ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে জনসভাটি শুরু হয়। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
