চাকরি হারানোর আশঙ্কায় টেক্সটাইল মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি শ্রমিকদের
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে স্পিনিং মিল বন্ধের মালিকপক্ষের ঘোষণায় চাকরি হারানোর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন টেক্সটাইল খাতের শ্রমিক ও কর্মচারীরা। তারা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে টেকসই নীতিমালার স্বার্থে সব পক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ স্পিনিং শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
লিখিত বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার আজহার আলী বলেন, "বর্তমানে বাংলাদেশ স্পিনিং শিল্পে প্রায় ১০ লাখ শ্রমিক ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে স্পিনিং মিলগুলো বন্ধ হয়ে গেলে এসব শ্রমিক ও কর্মচারী বেকার হয়ে পড়বেন।"
তিনি বলেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষ বেকার হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবে। এ অবস্থায় শ্রমিক ও কর্মচারীরা উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত।
এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুতার দামের সামঞ্জস্য রাখতে স্পিনিং শিল্পে অন্তত দুই বছরের জন্য ১০ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি ফ্রি অন বোর্ড (এফওসি) সুবিধার আওতায় সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানির অনুমতির প্রস্তাব দেন।
তিনি বলেন, "অতিরিক্ত এফওসি সুবিধা চালু থাকলে দেশের ব্যাকওয়ার্ড টেক্সটাইল শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।" একই সঙ্গে বিটিএমএ, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও সরকারের যৌথ উদ্যোগে স্পিনিং কারখানাগুলো চালু রাখার জোর দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, শ্রমিক ও কর্মচারীদের ব্যাকওয়ার্ড শিল্পগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে পর্যায়ক্রমে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের জন্য একটি কার্যকর নীতিমালা দ্রুত প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গার্মেন্টস শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, ডাই ও কেমিক্যাল এবং স্পিনিং ও উইভিংয়ের স্পেয়ার পার্টস উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এ সময় প্ল্যাটফর্মটির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহীনুল হকসহ বিভিন্ন টেক্সটাইল মিলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
