ধানের শীষের ২৯২ প্রার্থীর মধ্যে ২৩৭ জন স্নাতক ডিগ্রিধারী: মাহাদী আমীন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের ২৯২ প্রার্থীর মধ্যে ২৩৭ জনই ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রিধারী বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহাদী আমীন।
আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
মাহাদী আমীন বলেন, "২৯২টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে ৮৫ জনের আগে সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাশাপাশি ১৯ জন প্রার্থী অতীতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।" প্রার্থীদের এই রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততা বিএনপিকে একটি ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মাহাদী আমীন বলেন, "বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে ২৩৭ জন ন্যূনতম স্নাতক সম্পন্ন করেছেন, যা শিক্ষাগত মানের দিক থেকে দলের স্বকীয়তা তুলে ধরে।"
তিনি আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি সর্বোচ্চ ১০ জন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে, যা নারীর ক্ষমতায়নে দলের প্রতিশ্রুতির বহিঃপ্রকাশ। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও বাড়ানোর অঙ্গীকারও করেন তিনি।
মাহাদী আমীন বলেন, "দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হওয়া সত্ত্বেও একজন নারী প্রার্থীকেও মনোনয়ন দেয়নি, এমন রাজনৈতিক দল রয়েছে; বিষয়টি হতাশাজনক।"
তিনি দাবি করেন, বিগত 'ফ্যাসিস্ট' শাসনামলে সবচেয়ে বেশি গুম, খুন, নিপীড়ন, নির্যাতন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছে বিএনপি। ফলে দলটির মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে নির্যাতনের শিকারদের সংখ্যাই বেশি।
তিনি জানান, "গুম হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন প্রার্থী রয়েছেন—সালাহউদ্দিন আহমদ, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন ও হুম্মাম কাদের চৌধুরী। এ ছাড়া গুমের শিকার হওয়া পরিবারের মধ্য থেকে দুইজন প্রার্থী রয়েছেন—সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিন রুশদির লুনা এবং সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন ও 'মায়ের ডাক'-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি।"
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে মাহাদী আমীন বলেন, "একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাদের নেতা-কর্মীরা ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের কিছু পোস্ট ও ভিডিও বিএনপির নজরে এসেছে।" ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ভোট চাওয়ার এ ধরনের চেষ্টা অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগ ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৭(১)(ঘ) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আইন অনুযায়ী 'অসৎ প্রভাব বিস্তার' হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
