ভোলা-২ আসন: জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন এলডিপি প্রার্থী
ভোলা–২ (দৌলতখান–বোরহানউদ্দিন) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ১১ দলীয় জোটভুক্ত লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মনোনীত প্রার্থী মোকফার উদ্দিন চৌধুরী।
রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় ভোলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তার পক্ষে লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন এলডিপির জেলা সভাপতি বশির আহমেদ।
এর আগে ভোলা-২ আসনের এলডিপি প্রার্থী মোকফার উদ্দিন চৌধুরী জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিমকে মুঠোফোনে কল করে তার মায়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।
একইসঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, জোটের মধ্যে একাধিক প্রার্থী থাকলে যাতে প্রতিপক্ষ সুবিধা না পায়, সে বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তিনি জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচনে তার পক্ষে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
লিখিত বিবৃতিতে বশির আহমেদ জানান, জোটের ঐক্য, সৌহার্দ্য ও বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মুফতি ফজলুল করিমকে সমর্থন জানিয়ে স্বেচ্ছায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মোকফার উদ্দিন চৌধুরী।
তিনি আরও বলেন, মাওলানা মুফতি ফজলুল করিম দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা, সততা ও ত্যাগের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। জনগণের প্রতি তার দায়বদ্ধতা ও নেতৃত্বের গুণাবলীর প্রতি সম্মান জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
বশির আহমেদ আরও বলেন, রাজনীতিতে ব্যক্তিগত প্রার্থিতার চেয়ে জোটের বৃহত্তর স্বার্থ অধিক গুরুত্বপূর্ণ। ১০ দলীয় জোটের ঐক্য অটুট রাখতে এলডিপি প্রার্থীর এই সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়।
জেলা এলডিপি নেতারা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত জোটের রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভোলা–২ আসনের নির্বাচনি সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
ভোলা-২ আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম।
এদিকে বিএনপির প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমের নির্বাচনি হলফনামায় তার পরিবারের ১০৬ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের তথ্য গোপনের অভিযোগে বর্তমানে আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর আগে ঋণ খেলাপির তথ্য গোপনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিল জামায়াত।
