১০-দলীয় নির্বাচনি জোটে এবার যুক্ত হলো লেবার পার্টি
জামায়াতে ইসলামীসহ ১০টি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি জোটে এবার যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। এর ফলে জামায়াত-এনসিপির জোট আবারও ১১–দলীয় নির্বাচনি জোটে পরিণত হলো।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মা'ছুম।
এ সময় লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও দলের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এটিএম মা'ছুম বলেন, ১০ দলের সঙ্গে আরও একটি দল বাংলাদেশ লেবার পার্টি একাত্মতা ঘোষণা করেছে। ১০ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের যুক্ত করা হয়েছে। দলটি যোগ দেওয়ায় ১০–দলীয় নির্বাচনি ঐক্য ১১ দলে পরিণত হয়েছে। এটি একটি বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত দেশপ্রেমিক ও চিন্তাশীল লোকদের নিয়ে ভবিষ্যতে সরকার গঠন করতে চায়। সেক্ষেত্রে লেবার পার্টির একাত্মতা ঘোষণা করা বিরাট অগ্রগতি। দেশপ্রেমিক ও আধিপত্যবাদবিরোধী দল ও ব্যক্তিকে নিয়ে এগোতে চায় জামায়াত। এই ১১ দল সব ধরনের দলীয় মতপার্থক্য নিজেদের মধ্যে রেখে জাতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, লেবার পার্টিকে ১০ দলের মহৎ উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করার জন্য যুক্ত করায় লেবার পার্টি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।
তিনি বলেন, ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে লেবার পার্টি যাদের সঙ্গে ছিল, তাদের চেহারার মধ্যে ক্রমশ ফ্যাসিবাদের ছাপ লক্ষ করা গেছে। ফ্যাসিবাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কর্মকাণ্ড ক্রমান্বয়ে মিলে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যদি গতানুগতিকভাবে শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন হয়, তাহলে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। লেবার পার্টি এমন অর্থবহ পরিবর্তন চায়, যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জুলাইয়ের জন–আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে।
গত সেপ্টেম্বরে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল এক হয়ে নির্বাচনি সমঝোতার ঘোষণা দেয়। ২৯ ডিসেম্বর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ হওয়ার দুদিন আগে এনসিপি এবং এবি পার্টি যোগ দেয় এই নির্বাচনি সমঝোতায়। এছাড়াও যুক্ত হয় এলডিপি। এতে জামায়াতের নির্বাচনি ঐক্য ১১ দলে পরিণত হয়। তবে আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনে বেরিয়ে গেলে তা ১০ দলে পরিণত হয়।
