শিশু নির্যাতন: ঢাকায় শারমিন একাডেমির ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার
ঢাকার নয়াপল্টন এলাকার শারমিন একাডেমিতে এক শিশু নির্যাতনের ঘটনায় স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (মতিঝিল জোন) সহকারী কমিশনার হোসেন মো. ফারাবি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি গতকাল (২২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৪টায় মিরপুর-৬ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশু অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০১৩-এর ধারা ৭০ অনুযায়ী পবিত্র বড়ুয়া ও শারমিন জাহানের নামে মামলা করা হয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এটি ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন অ্যাডভোকেট সালেহ উদ্দিন।
ভিডিওতে দেখা যায়, গোলাপি শাড়ি পরা এক নারী (সম্ভবত শিক্ষিকা) একটি চার থেকে পাঁচ বছর বয়সী ছেলেকে ইউনিফর্ম পরে অফিসের ভিতরে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন এবং সোফায় বসিয়ে তাকে বারবার চড় মারছেন ও বকাঝকা করছেন। ডেস্কে বসে থাকা এক ব্যক্তি, তিনিও একজন শিক্ষক বলে জানা গেছে, একটি স্ট্যাপলার নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং শিশুটির মুখ স্ট্যাপলার দিয়ে আটকে দেওয়ার হুমকি দেন।
সিসিটিভি ফুটেজের তারিখ ১৮ জানুয়ারি, দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটের। ফুটেজে শিশুটিকে অত্যন্ত আতঙ্কিত দেখা গেলেও ওই নারীকে হাসতে দেখা যায়, যা অনলাইনে ব্যাপক নিন্দার ঝড় তুলেছে।
মাত্র সাত দিন আগে শারমিন একাডেমিতে ভর্তি হওয়া ওই শিক্ষার্থী তার মায়ের কাছে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছে। মা জানান, এই ঘটনার পর থেকে তার সন্তান গুরুতর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
আতঙ্কিত মা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'আমার বাচ্চা ঘুমের মধ্যেও কেঁদে উঠছে এবং বারবার বলছে—মা, আমার মুখ সেলাই করে দিও না। আমি কিছু করিনি। আমি এখানে থাকতে চাই না।'
ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে শিশু আইন, ২০১৩-এর অধীনে মামলা করেছেন। তারা শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে স্কুল কর্তৃপক্ষের অবহেলার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
শারমিন একাডেমি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। গতকাল স্কুলটি পরিদর্শনে গিয়ে সেটি খালি এবং মূল ফটক তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। স্কুলের ফেসবুক পেজে দেওয়া নম্বরে ফোন করা হলেও কেউ রিসিভ করেনি।
