নির্বাচনে এআই-এর অপব্যবহার বড় চ্যালেঞ্জ, মোকাবিলা করা সমস্যা হতে পারে: সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আগামী নির্বাচনে এআইয়ের (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) অপব্যবহার একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এটি মোকাবিলা করা আমাদের জন্য বড় সমস্যা হতে পারে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে রাজনৈতিক দলগুলোকে পোস্টাল ভোটিং সিস্টেম নিয়ে বিফ্রিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।
এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টাল ভোটিং নিয়ে নানা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিইসি। বলেন, 'পোস্টাল ভোটিং সিস্টেম নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে ১২টা বাজিয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আপনারা (সাংবাদিকরা) পাশে আছেন বলেই মানুষ সঠিক তথ্য পাচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই না বুঝে সমালোচনা করেন। আপনারা (সাংবাদিকরা) আমাদের সঙ্গে আছেন বলেই মানুষ সঠিক তথ্য পাচ্ছে। কোনো নতুন কাজে ভুলত্রুটি বা ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে, কিন্তু এখানে অন্য কোনো মোটিভ কাজ করেনি। সাংবাদিকরা যদি মানুষের কনফিউশনগুলো পরিষ্কার করে দেন, তবে এই প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে।'
সিইসি বলেন, বিশ্বের ১২২টি দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সফল হলে বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। এর আগে দেশে এই ধরনের সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ কেউ নেয়নি। অনেক উন্নত দেশও যা পারেনি, বাংলাদেশ তা করে দেখাচ্ছে।
তিনি বলেন, 'আমরা যখন এই উদ্যোগ নেই, তখন জানতাম এর মধ্যে বহু ঝামেলা ও চ্যালেঞ্জ আসবে। আমরা একটা অজানা এরিয়াতে ঢুকে পড়েছিলাম। কিন্তু আমাদের শপথ ছিল এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করার। ১২২টি দেশের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি, আইন এবং পোস্টাল সিস্টেমকে এক সুতোয় গাঁথা ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ। আমাদের টিম নিরলসভাবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যাচ্ছে।'
সিইসি বলেন, 'বিদেশি কূটনীতিকরা যখন আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন, তারা বলেন যদি বাংলাদেশ এই পোস্টাল ব্যালট সফল করতে পারে, তবে তা বিশ্ব ইতিহাসে স্থান পাবে। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোও এভাবে সফল হতে পারেনি। প্রথম বছর হিসেবে আমরা এখন পর্যন্ত যা করেছি, তা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থানে আছে।
ইসির ব্রিফিংয়ে আসা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রশ্নের জবাব দেন ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে. এম. আলী নেওয়াজ। অনুষ্ঠানে আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান পোস্টাল ভোটিংয়ের পুরো প্রক্রিয়া তুলে ধরেন।
এ সময় সৌদি আরব, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, যুক্তরাজ্য, বাহরাইন, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা পোস্টাল ভোটের বিষয়ে সেসব দেশের অবস্থা বর্ণনা করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-অর্ডিনেটর ইসমাইল জবিউল্লাহ ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন সচিব ডক্টর মোহাম্মদ জকরিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও স্বতন্ত্র প্রর্থীরা অংশ নেন।
