রাষ্ট্র পরিচালনার ‘পলিসি পেপার’ ও নির্বাচনি ইশতেহার চূড়ান্ত করছে জামায়াত
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিশেষ 'পলিসি পেপার' চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি অধিবেশনে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বৈঠক চলাকালীন গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
জুবায়ের বলেন, 'এবারের নির্বাচনে জামায়াত কেবল প্রথাগত ইশতেহারই নয়, বরং ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষ 'পলিসি পেপার' তৈরি করছে। এই নীতিনির্ধারণী নথি তৈরির কাজে দলের অভ্যন্তরীণ জনশক্তির পাশাপাশি বাইরে থেকেও বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন।'
রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, 'জনগণের ভোটে কোনো দল যদি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পায়, তখন রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট পলিসি প্রয়োজন হয়। আমরা সেই প্রস্তুতিই নিচ্ছি যা পর্যায়ক্রমে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।'
নির্বাচনি প্রচারণার বিষয়ে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জানান, আগামী ২২ তারিখ থেকে জামায়াতের নির্বাচনি প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। প্রচারণার বিস্তারিত শিডিউল এবং ইশতেহার আজকের বৈঠকেই চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
জোট ও আসন বণ্টন প্রসঙ্গে জুবায়ের বলেন, 'সদ্য কারামুক্ত মাওলানা মামুনুল হক সাহেব নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। জোটের বিষয়ে আমাদের লিয়াজোঁ কমিটি কাজ করছে। ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখার বিষয়ে লিয়াজোঁ কমিটির যে প্রস্তাব রয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাহী পরিষদের এই বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের সময় কম থাকায় আজকের বৈঠকেই অধিকাংশ এজেন্ডা চূড়ান্ত করতে চায় দলটি।
আজ সকাল ৯টা থেকে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বৈঠকটি চলমান রয়েছে।
