আপিল শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যশোর-২ আসনের সাবিরা সুলতানাসহ অনেক প্রার্থী
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এদিন প্রায় ৩০টি আবেদনের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে।
শুনানি সূত্রে জানা গেছে, যশোর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জহরুল ইসলাম বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেছিলেন। আপিলে সাবিরা সুলতানার স্বামীর ঋণ সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল না। দুই দফা দীর্ঘ শুনানির পর সাবিরা সুলতানার প্রার্থিতা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দেয় কমিশন।
এদিন শুনানি শেষে বিভিন্ন আসনের একাধিক প্রার্থীর আবেদন মঞ্জুর, নামঞ্জুর ও কিছু আবেদনের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন।
খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী এস এম আরিফুর রহমান মিঠু ঋণখেলাপি সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়ে আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। তবে সিলেট-২ আসনের মোহাম্মদ আব্দুস শহীদের আবেদনে নাম ও স্বাক্ষর না থাকায় তার আবেদনটি নামঞ্জুর করা হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের মধ্যে বগুড়া-১ আসনের এবিএম মোস্তফা কামাল পাশার শিক্ষা সনদ গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় তার প্রার্থিতা মঞ্জুর করা হয়েছে। একই দলের নুরে আলম সিদ্দিকীর জমি বন্ধক ও ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আবেদন মঞ্জুর করা হয়। এছাড়া সিলেট-৪ আসনে একই দলের মাওলানা সাঈদ আহমদের আবেদনও মঞ্জুর করেছে ইসি।
ময়মনসিংহ-৬ ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী মো. আবুল বাসার রেজওয়ানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবকারীর স্বাক্ষর সংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধন হওয়ায় তার প্রার্থিতা মঞ্জুর করা হয়।
এদিকে, ঢাকা-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হুসাইনুজ্জামান প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা না দেওয়ায় প্রার্থিতা হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইউসুফ খানের আবেদন একই কারণে নামঞ্জুর হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে তার প্রার্থিতা মঞ্জুর করা হয়েছে।
শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় শরীয়তপুর-২ আসনের আখতারুজ্জামান সম্রাট এবং টাঙ্গাইল-৮ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আবুল ফজল মাহমুদুল হকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
নরসিংদী-৩ আসনে এলাহি বনাম আরিফ উল ইসলাম মৃধা মামলায় আপিল নামঞ্জুর হলেও আরিফ উল ইসলামের প্রার্থিতা বহাল রয়েছে। তবে একই আসনের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাদ্দাম হোসেনের আপিল মঞ্জুর করেছে কমিশন।
কক্সবাজার-৪ আসনে মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন (যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা) বনাম জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাইফুদ্দিন খালেদের আপিল আবেদন খারিজ করে সাইফুদ্দিন খালেদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। একইভাবে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে হুসাইন আহমেদ বনাম মো. আনোয়ার হোসেন মামলায় আপিল খারিজ করে আনোয়ার হোসেনের প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়েছে।
কুমিল্লা-৮ আসনের নুরুল ইসলাম মিলন, চাঁদপুর-৫ আসনের জাকির হোসেন প্রধানীয়া এবং ঢাকা-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রাশেদুল ইসলামের আবেদন নামঞ্জুর করেছে কমিশন। এছাড়া নেত্রকোনা-২ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুর রহিমের প্রার্থিতা মঞ্জুর করা হয়।
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থীদের মধ্যে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের আব্দুল হাকিম, পঞ্চগড়-২ আসনের মো. আশরাফুল আলম, জামালপুর-৫ আসনের মো. আক্কাস আলী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ইকবাল হোসেন এবং নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের মনিরুজ্জামান চন্দনের প্রার্থিতা মঞ্জুর করা হয়েছে। তবে রংপুর-৬ আসনে সিপিবির মো. কামরুজ্জামানের আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আজাদ চৌধুরী এবং সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলামের আবেদন স্থগিত রাখা হয়েছে। ইসি জানিয়েছে, এই আবেদনগুলোর শুনানি আগামী ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
