খালেদা জিয়ার দিকনির্দেশনা যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখনই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন: দেবপ্রিয়
জাতির এই সন্ধিক্ষণে খালেদা জিয়ার দিক নির্দেশনা সম্ভবত সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ও অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
তিনি বলেন, 'জাতির এই সন্ধিক্ষণে যখন তার (খালেদা জিয়া) উপস্থিতি, পরামর্শ, দিকনির্দেশনা সম্ভবত সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখনই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। উনি হয়তো চাইতেন আমরা সবাই একত্রে, নীতিনিষ্ঠভাবে দেশ ও মাতৃকার প্রতি আমাদের ভালোবাসা থেকে যৌথভাবে আজকের এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করি। উনি হয়তো সেটাই চাইতেন।'
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, 'ওনার মতো বহুমাত্রিক জীবন নিয়ে বিভিন্নভাবে আলোচনা হতে পারে। আমরা জাতীয়ভাবে, বৈশ্বিকভাবে আলোচনা করতে পারি, সামষ্টিক-ব্যাষ্টিকভাবে আলোচনা করতে পারি, বিভিন্ন আঙ্গিক থেকে তাৎক্ষণিকতা এবং ইতিহাসের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও আলোচনা করতে পারি। কিন্তু যাদের সৌভাগ্য হয়েছিল ওনার কাছে যাওয়ার, তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে যদি আমরা বৃহৎ চিত্রটিকে অনুধাবন করতে পারি, সেটিই মনে হয় এই শেষ বেলায় আমার জন্য সবচেয়ে বেশি আকর্ষনীয় হবে।'
এ অর্থনীতিবিদ বলেন, 'আমার সৌভাগ্য হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ওনার দুই শাসনামলে অন্তত চারবার নীতি বিষয়ক আলোচনা করার সুযোগ।'
তিনি বলেন, 'প্রথমে একবার যখন আমি অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম ১৯৯১ সালে। তারপর যখন আমি ব্যাংক রিফর্ম কমিশনের সদস্য ছিলাম তখন। আর একবার ডব্লিউটিও- এর প্রাক্কালে দোহা নেগসিয়েশনের প্রাক্কালের দল নির্বাচনের সময়, আরেকবার আলোচনার সুযোগ হয়েছিল।'
তিনি আরও বলেন, 'সর্বশেষ ২০০২ সালে তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করার জন্য একটি জাতীয় কমিটি করা হয়েছিল, সেই কমিটির সদস্য আমি যখন ছিলাম। তখন একটি ক্যাবিনেট সাব কমিটির মিটিংয়ে ওনার সঙ্গে আমার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি আলোচনা হয়েছিল, যা হয়তো জাতীয় ইতিহাসের নীতি নির্ধারণের এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি মাইলস্টোন হিসেবে আছে।'
