খালেদা জিয়ার দুই রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারবে না: মহিউদ্দিন আহমদ
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দুটি রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ।
রেকর্ড দুটির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, প্রথমত— বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হওয়া প্রথম প্রধানমন্ত্রী তিনি। দ্বিতীয়টি হলো— রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী ক্ষমতা পেয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় এসব কথা বলেন মহিউদ্দিন আহমদ।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পরিক্রমা বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, 'খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনকে মূলত তিনটি পর্বে ভাগ করা যায়। প্রথম পর্বটি ছিল তার উত্থানকাল, যা ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সময় তিনি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি বিপর্যস্ত রাজনৈতিক দলকে পুনর্গঠন করেন এবং নেতা হয়ে ওঠেন।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'দ্বিতীয় পর্বটি হচ্ছে— ১৯৯১ সাল থেকে তার সরকার পরিচালনা। দুই মেয়াদে সরকার পরিচালনা এবং এক মেয়াদে বিরোধী দলের নেতা হন তিনি। রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গেলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সেখানে অনেক ভালো কাজ হয়, তার প্রশংসা হয়। অনেক খারাপ কাজ হয়, সমালোচনা হয়। এটা নিয়েই সরকার। তারপর ২০০৭ সাল থেকে তার লড়াই–সংগ্রাম এবং নানানভাবে তাকে ভিক্টিমাইজ করা হয়।' এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার প্রথম দিকের উত্থান পর্বের পর তাকে আপসহীন নেত্রী বলা হয় বলে জানান।
খালেদা জিয়ার বর্তমান ভাবমূর্তি নিয়ে তিনি বলেন, 'শেষ পর্বে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার প্রতি সাধারণ মানুষের আবেগ, ভালোবাসা এবং সহানুভূতি হচ্ছে তার সেই ভিকটিম ইমেজ। মানুষ এই দুটোকে চিরদিন স্মরণ রাখবে।'
বক্তব্যে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত গুণাবলির প্রশংসা করে মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, 'খালেদা জিয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এলিগেন্স (মার্জিত) চরিত্র, যেটা আমাদের আকর্ষণ করে। তাকে সম্মান করতে হয়।'
রাজনীতিতে শিষ্টাচারের অভাব নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, 'খালেদা জিয়ার এলিগেন্সটা দেশের রাজনীতিতে আর নেই। আমরা একটা কথা বলি যে, ক্রিকেট হচ্ছে ভদ্রলোকের খেলা। রাজনীতিটা কেন ভদ্র–সজ্জনদের পেশা হবে না? এটা কেন দুর্বৃত্তদের হাতে চলে যাবে?'
২০২৪ সালের ৭ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর খালেদা জিয়ার দেওয়া ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, 'সেখানে তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে আমাদের প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।'
দেশের ভবিষ্যতের জন্য 'পলিটিক্স অফ রিকন্সিলিয়েশন' বা সমঝোতার রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, 'চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, জানের বদলে জান— এভাবে দশকের পর দশক পার করছি। কিন্তু এভাবে আমরা সামনে এগোতে পারব না।'
বক্তব্যের শেষে খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা নিজের বইয়ের উৎসর্গপত্রের কথা স্মরণ করেন তিনি। তিনি বলেন, 'খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটা বই লিখেছি। তার উৎসর্গে জালালউদ্দিন রুমির একটি উদ্ধৃতি দিয়েছি। আলো দিতে হলে মোমবাতি হতে হয় এবং নিজেকে পুড়তে হয়। খালেদা জিয়া সেটা তার জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন।'
