দুপুর ২টায় ৭%, দিনশেষে ৪০% ভোট কাস্টিং: ২০২৪-এর নির্বাচনের অভিজ্ঞতা জানালেন অতিরিক্ত সচিব
বিগত ১৫ বছরে দেশের সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেনি উল্লেখ করে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
২০২৪ সালের নির্বাচনের অনিয়ম তুলে ধরে তিনি বলেন, '২০২৪ সালে আমি ভোট দিতে গিয়েছিলাম ২টার সময়। ভোট দিয়ে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে জানতে চেয়েছিলাম ভোট কাস্টিং কত শতাংশ? তিনি বলেছিলেন, ৭ শতাংশ। দিনশেষে টিভিতে দেখলাম ভোট কাস্টিং দেখানো হয়েছে ৪০ শতাংশের কম-বেশি।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি ওই প্রিজাইডিং অফিসারকে পরে কৌতূহলবশত বলেছিলাম, আমি তো দুইটার সময় ৭ শতাংশ দেখে আসছি। তিনি জানিয়েছিলেন, স্যার দুইটার পরে আর কোনো কিছু আপলোড করিনি। এটা ৪০ শতাংশ হয়ে গেছে পরে। অথচ ওই কেন্দ্রে ওই সময় আমি একমাত্র ভোটার ছিলাম।'
বৃহস্পতিবার (১৫ই জানুয়ারি) সকালে সাভার উপজেলা পরিষদের মাঠে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত 'সাভার উপজেলাধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গের সাথে গণভোট-২০২৬ বিষয়ক অবহিতকরণ সভা'য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সভায় তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদের 'সরকারের দূত' হিসেবে ভোটারদের ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করতে এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছে গণভোটের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি এই গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিগত নির্বাচনগুলোর সমালোচনা করে মোজাম্মেল হক বলেন, বিগত ১৫ বছরে আমরা কেউ ভোট দিতে পারিনি। আমরা ২০১৪ সালে দেখেছি ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালে দেখেছি দিনের ভোট রাতে দিতে, ২০২৪-এ দেখেছি ডামি নির্বাচন।'
তিনি বলেন, '২০১৮ সালে আমার নির্বাচনের কোনো দায়িত্ব ছিল না, ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল। প্রথমে আমার পরিবারের কেউ কেউ ভোট কেন্দ্র থেকে ফেরত এসে বলল, তাদের ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। পরে বুঝতে পেরেছি, ভোট আগের রাতেই হয়ে গেছে।'
তিনি আরও বলেন, 'সংবিধান সংশোধন করছে কারা? ম্যান্ডেটবিহীন একটা সংসদ। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া যে সংসদ গঠিত হয়েছিল তথাকথিত নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ক্ষমতায় তারা সংশোধন করে তাদের ইচ্ছামতো কাজ করেছে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে—এই ক্ষমতা থাকার কারণে আমরা দেখেছি ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে। সেজন্য এইবার সুযোগ এসেছে, ক্ষমতাটা জনগণের হাতে গণভোটের মাধ্যমে ফিরিয়ে দেওয়ার।'
গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, 'গণভোটে যদি 'হ্যাঁ' জয়যুক্ত হয়, পরবর্তীতে যারা সরকার গঠন করবে এবং যারা বিরোধী দলে থাকবে তারা সবাই মিলে সংবিধানে এমন ব্যবস্থা করবে, যে ব্যবস্থায় ইচ্ছামতো যখন-তখন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার বদৌলতে সংবিধানের মৌলিক বিষয়গুলো সংশোধন করা যাবে না। সংবিধানে বলা আছে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। তাই সংবিধানের বড় ধরনের কোনো সংস্কার দরকার হলে তখন জনগণের কাছেই যেতে হবে।'
