রাজধানীতে বাসায় চুরি: হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জামায়াত নেতার মৃত্যু
রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে বাসায় ঢুকে হাত-পা বেঁধে রেখে চুরির ঘটনায় আনোয়ার উল্লাহ (৬৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভোরে শেরে বাংলা নগর থানার পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আনোয়ার উল্লাহ জামায়াতে ইসলামীর পশ্চিম রাজাবাজার সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি পেশায় একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত আনোয়ার উল্লাহ তার স্ত্রী নাছিমা আক্তারকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন। স্কয়ায় হাসপাতালের পেছনের গলিতে তার একটি হোমিওপ্যাথির দোকান ছিল। তার এক ছেলে পর্তুগাল ও এক মেয়ে ফিনল্যান্ড থাকেন। আরেক মেয়ে ও মেয়ের জামাই তার ফ্ল্যাটের উপরের তলায় থাকতেন।
নিহতের মামাতো ভাই মাকছুদুর রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস)- বলেন, 'সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ভোর রাত ২টা ৩৮ মিনিটে দুইজন চোর বাসার বারান্দার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে আনোয়ার উল্লাহ ও তার স্ত্রীর হাত-পা বেধে ফেলে। পাশাপাশি তাদের মুখে কাপড় গুজে মুখও বেধে ফেলে। এরপর আনোয়ারকে মারধর করে ঘরে থাকা ৫ লাখ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণ নিয়ে একই পথে ৫টা ৮ মিনিটে পালিয়ে যায়।'
তিনি আরও বলেন, 'চোরদের মারধরে আনোয়ার ও তার স্ত্রী অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তার স্ত্রীর জ্ঞান ফিরলে ওপরের তলায় থাকা মেয়ে জামাইকে ফোন দিলে তারা নিচে গিয়ে আনোয়ারকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।'
নিহতের মেয়ে রেহানা টিবিএসকে বলেন, 'এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যা। আমার বাবা সব সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেন। তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শুধু চুরির উদ্দেশে এলে তারা চুরি করে চলে যেতো। আমার বাবাকে মারলো কেন?'
তবে পুলিশের ধারণা, মুখে কাপড় গোজায় শ্বাসরোধে অথবা ভয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওই জামায়াত নেতা মারা গেছেন।
শেরে বাংলা নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুর রহমান টিবিএসকে বলেন, 'আমরা নিহতের শরীরে মারধরের কোনো দাগ দেখতে পাইনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি তিনি শ্বাসরোধে অথবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।'
তিনি আরও বলেন, 'সিসিটিভি ক্যামেরায় দুইজন চোরকে দেখা গেছে। তাদের মুখে মাস্ক ছিল, মাথায় মাঙ্কি টুপি ছিল। আমরা তাদের শনাক্তে কাজ করছি।'
এদিকে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় আনা হয়েছে। সেখান জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা মনোহরগঞ্জের লক্ষণপুরে নেয়া হবে। সেখানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা।
