দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য শ্রুতিলেখক নীতিমালা জারি, অভিন্ন নিয়মে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষায় শ্রুতিলেখকের সেবা গ্রহণে একটি অভিন্ন নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন ভিন্ন নিয়মে শ্রুতি লেখক নিয়োগ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা চলায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। সেই জটিলতা দূর করতেই 'পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষায় শ্রুতি লেখকের সেবা গ্রহণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৫'- প্রণয়ন করা হয়েছে।
আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, 'শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চার মাস ধরে একাধিক অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে এই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।'
শফিকুল আলম বলেন, 'সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৫৬৫ জন।'
তিনি বলেন, 'এর আগে পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষার ক্ষেত্রে শ্রুতিলেখক নিয়োগের কোনো পূর্ণাঙ্গ ও অভিন্ন নীতিমালা ছিল না। বিভিন্ন সময় খণ্ড খণ্ড প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হতো। ফলে শ্রুতিলেখকের যোগ্যতা, সম্মানী, আবেদন প্রক্রিয়া, অভিযোগ ও প্রতিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না।'
তিনি আরও বলেন, 'নতুন নীতিমালায় এসব বিষয় সমন্বিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সময়ের বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। প্রতি এক ঘণ্টা পরীক্ষার বিপরীতে ১৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে নীতিমালায়।'
প্রেস সচিব বলেন, 'এই নীতিমালা সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সাধারণ শিক্ষাবোর্ড, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীন পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এতে শ্রুতিলেখকদের যোগ্যতা ও আবেদন ফরমের বিস্তারিত তফসিল সংযুক্ত রয়েছে।'
শফিকুল আলম বলেন, 'ইতোমধ্যে একাধিক সংগঠন ও সংস্থা এই নীতিমালাকে স্বাগত জানিয়েছে। শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার বলেছেন যে শিক্ষায় সমতা প্রতিষ্ঠায় এই নীতিমালা কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন ঘটাবে।'
