ট্রাম্প ট্যারিফের প্রভাব: অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ
ট্রাম্প প্রশাসনের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আরোপের চাপ পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকারক বিভিন্ন দেশের ওপর। এর ধারাবাহিকতায় অক্টোবরে দেশটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বছরওয়ারি প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে। মার্কিন সরকারের আরোপ করা উচ্চ শুল্কের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পোশাক বাজারটিতে ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ায় ক্রয়প্রবণতাও হ্রাস পেয়েছে।
অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য অক্টোবরে শুধু বাংলাদেশ নয়, পোশাক রপ্তানিকারক প্রায় সব দেশ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে। ওটেক্সার হিসাবে, শুধু অক্টোবর মাসে দেশটির মোট পোশাক আমদানি কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ।
বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ট্যারিফের কারণে পোশাক পণ্যের দাম বেড়েছে, ফলে সেখানে ভোক্তা ব্যয় কমেছে এবং সামগ্রিকভাবে পোশাক আমদানি হ্রাস পেয়েছে। গত আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার নতুন ট্যারিফ কার্যকর করেছে, যার আওতায় বাংলাদেশের পোশাক পণ্যের ওপর নতুন করে ২০ শতাংশসহ মোট ৩৬ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে।
এর মধ্যে চীন ও ভারতের পণ্যের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ফলে এই দুই দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি কমেছে ৫৩ শতাংশ এবং ভারত থেকে কমেছে প্রায় ২৯ শতাংশ।
মুদ্রাস্ফীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে চাহিদা কমেছে
বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "নতুন ট্যারিফের কারণে সেখানে পোশাক পণ্যের দাম বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতারা পাঁচটির জায়গায় তিনটি পোশাক কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।"
তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ঘন ঘন নীতিগত পরিবর্তনের কারণে সেখানে ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলো অনিশ্চয়তায় রয়েছে। ফলে তারা মজুত কমিয়ে দিয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্টক রাখছে না। ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার আগে, অর্থাৎ ৭ আগস্টের মধ্যে দেওয়া অর্ডারগুলো ইতোমধ্যে সরবরাহ হয়েছে, যার কারণে এখন রপ্তানি কমে গেছে।
তিনি বলেন, "এতে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপারেল সরবরাহ শৃঙ্খলে সংকট তৈরি হতে পারে, যা আবারও দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।"
ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল। তবে আগস্টে নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার পর আমদানি কমতে শুরু করে, যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে প্রধান রপ্তানিকারক দেশ চীনের ওপর।
বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত
বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা বলছেন, চীন ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়ার রপ্তানি পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ওটেক্সার তথ্য জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি প্রায় ১ শতাংশ কমে ৬৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৬৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৫ শতাংশের বেশি। যদিও জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে এই প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২২ শতাংশ।
একই সময়ে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩২ শতাংশ।
