যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি, শূন্য শুল্কে পোশাক রপ্তানি বাস্তবায়নে স্পষ্টতা চায় বিটিএমএ
সম্প্রতি সই হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ চুক্তির অনুচ্ছেদ ৫.৩ (টেক্সটাইলস) বাস্তবায়নে কাঠামোবদ্ধ আলোচনা ও নীতিগত ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। সংগঠনটির মতে, চুক্তিটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি ত্বরান্বিত হবে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কটন কাউন্সিল অব আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী ড. গ্যারি অ্যাডামসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিটিএমএ জানায়, ৯ ফেব্রুয়ারির চুক্তির আওতায় টেক্সটাইল ও পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষ পারস্পরিক শূন্য শুল্ক সুবিধা রাখা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানির সঙ্গে যুক্ত।
২৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্মিলিত বিনিয়োগ নিয়ে ১,৮৭৩টি মিলের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বিটিএমএ জানায়, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের মোট তুলা আমদানির প্রায় ১০ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। সংগঠনটির মতে, নিকট ভবিষ্যতে এই অংশ চার থেকে পাঁচ গুণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হলে বাংলাদেশের বার্ষিক কাঁচা তুলার চাহিদা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ বেল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যেখানে বর্তমানে কার্যকর চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ বেল।
বিটিএমএ যুক্তি দিয়েছে, এ কাঠামো "পারস্পরিক লাভ" নিশ্চিত করবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে, মার্কিন খুচরা বিক্রেতাদের সোর্সিং বিকল্প শক্তিশালী হবে এবং ১০০ শতাংশ মার্কিন তুলা ব্যবহারের শর্তে শূন্য শুল্ক সুবিধা পাওয়ায়—মার্কিন তুলা উৎপাদকদের জন্য একটি "নিশ্চিত ও সম্প্রসারণশীল বাজার" তৈরি হবে।
তবে বাস্তবায়নসংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে স্পষ্টতা চেয়েছে বিটিএমএ।
সিনথেটিক বা কৃত্রিম তন্তু মিশ্রিত ব্লেন্ডেড সুতা শূন্য শুল্ক সুবিধার আওতায় পড়বে কি না—এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডেনিম উৎপাদনে ব্যবহৃত রিসাইকেলড তুলার ক্ষেত্রে উপাদানের ট্রেসেবিলিটি জটিল হওয়ায় এ অংশের জন্য নীতিগত ছাড় (পলিসি ওয়েভার) বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত 'ক্যাপ' বা সীমা নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়েও মতামত দিয়েছে সংগঠনটি। বিটিএমএ বলেছে, ১ ডলার মূল্যের তুলা সাধারণত ৫–৬ ডলার এফওবি পোশাক রপ্তানিতে রূপ নেয়। সে বিবেচনায়, রপ্তানি যোগ্যতার সীমা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলার মূল্যের পাঁচ থেকে ছয় গুণ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া ক্যাপটি জাতীয় ভিত্তিতে 'ফার্স্ট কাম, ফার্স্ট সার্ভড' পদ্ধতিতে বরাদ্দ হবে, নাকি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক—প্রকৃত তুলা আমদানির সঙ্গে সংযুক্ত করে—সে বিষয়েও স্পষ্টতা চাওয়া হয়েছে।
সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিটিএমএ— ইউএসএ কটন ট্রাস্ট প্রোটোকল ব্যবহারের সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে উন্নত ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা গড়ে ওঠা পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তীকালীন ছাড় দেওয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা সদস্য মিলগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে এবং মার্কিন তুলার জন্য একটি বিশেষ বন্ডেড ওয়্যারহাউস স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিটিএমএর একটি প্রতিনিধি দল শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে বলেও জানানো হয়েছে।
