সিলেটে প্রবাসীর বাড়ি ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দিলেন চাচা
সিলেটে যুক্তরাজ্য প্রবাসীর বাড়ি এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩৭ নং ওয়ার্ডের আখালিয়া এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আখালিয়ার কলাপাড়া এলাকায় যৌথ মালিকানাধীন জমিতে প্রায় ৩০ বছর আগে প্রবাসী আয়াজ আলী একটি দ্বিতল বাড়ি নির্মাণ করেন। এই জমির মালিক আয়াজ আলী ও তার ছোট ভাই রাকিব আলী। বছর আটেক আগে আয়াজ আলী মারা যান। তার ছেলে সাদিক আলীসহ পরিবারের সব সদস্য বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। দেশে থাকাকালীন বাড়িটি দেখাশোনা করতেন ছোট ভাই রাকিব আলী।
আয়াজ আলীর ছেলে সাদিক আলী অভিযোগ করেন, 'আব্বা মারা যাওয়ার পর আমার চাচা রাকিব আলী আমাদের সব সম্পদ দখল করে নেওয়ার তৎপরতা শুরু করেন। এতে আমরা বাধা দিলে তিনি আমাদের ভাইবোনদের হুমকী প্রদান করেন।'
সাদিক আলী আরও বলেন, 'কয়েক মাস আগে আখালিয়ায় আমাদের বাড়িটি ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন চাচা রাকিব আলী। এই বাসার জায়গাটি যৌথ মালিকানাধীন হলেও বাসাটি আমার বাবা নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের কিছু না জানিয়েই চাচা বাড়িটি ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন। এরপর মাস দেড়েক আগে ওই ভাঙারি ব্যবসায়ী আমাদের বাড়ি ভাঙা শুরু করেন। বিষয়টি জানার পর আমরা ভাঙারি ব্যবসায়ীকে বাধা দেই। কিন্তু এখন সে পুরো বাসা ভেঙে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে।'
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 'আমরা বিষয়টি সিটি করপোরেশনের স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর ও পুলিশকে জানিয়েও কোনো সুরাহা পাচ্ছি না।'
এ প্রসঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রিয়াজ মিয়া বলেন, 'এই বাসায় রাকিব আলীই থাকতেন। তার ভাইয়ের পরিবার যুক্তরাজ্যে থাকেন। ফলে স্থানীয়ভাবে এটি আমরা রাকিব আলীর বাসা বলেই জানতাম।'
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে তিনি বলেন, 'কয়েক মাস আগে রাকিব আলী আমাকে ফোনে জানান, তিনি বাসাটি ভেঙে ফেলবেন। সেসময় আমি আপত্তি জানিয়েছিলাম। এত টাকা খরচ করে নির্মিত একটি বাড়ি না ভাঙার পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি অ্যাপার্টম্যান্ট করবেন বলে বাড়িটি ভাঙার কথা জানান। এরপর তিনি এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বাড়িটি বিক্রি করে দেন।'
কাউন্সিলর রিয়াজ আরও বলেন, 'রাকিব আলীর কাছ থেকে কেনার পর ভাঙারি ব্যবসায়ী বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু করেন। তখন তার ভাতিজা যুক্তরাজ্য থেকে আপত্তি জানান। এই প্রথম আমরা জানতে পারি এটি যৌথ মালিকানাধীন বাড়ি। রাকিব আলীও আমার কাছে স্বীকার করেছেন এটি যৌথ মালিকানাধীন বাড়ি। তখন আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ি ভাঙার কাজ বন্ধ রাখি৷'
সাবেক এই কাউন্সিলর আরও যোগ করেন, 'বাড়ি ভাঙার কাজ বন্ধ রাখার পর ভাঙারি ব্যবসায়ী বারবার আমাকে চাপ দিচ্ছেন। কারণ সে ১০ লাখ টাকা দিয়ে বাড়িটি কিনেছে। তার তো কোনো দোষ নেই। ফলে আমি রাকিব আলী ও সাদিক আলী দুজনকেই বলেছি, নিজেরা বসে বিষয়টি মিমাংসা করে নেওয়ার জন্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোনো মিমাংসা করতে পারেননি। ফলে আমার পক্ষেও এর সমাধান দেওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি এখন পুলিশ দেখছে।'
অভিযোগ পেয়ে সম্প্রতি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জালালাবাদ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) তিনি বলেন, 'যৌথ মালিকানাধীন বাড়ি এভাবে রাকিব আলী একা বিক্রি করে দেওয়া ঠিক হয়নি। আমরা দুপক্ষকে দেশে এসে বিষয়টি সমাধান করতে বলেছি। তারা ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় নিয়েছেন। নিজেরা বসে সমাধান করতে না পারলে এ ব্যাপারে আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন।'
এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য থেকে সাদিক আলী বলেন, 'আব্বা মারা যাওয়ার পর থেকে আমরা যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগে চাচা রাকিব আলী আমাদের দেশের সব সম্পদ দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আগে আমাদের না জানিয়েই তিনি বাড়িটি বিক্রি করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি উল্টো আমাদের ভাই-বোনদের হুমকি প্রদান করেন। এর আগে তিনি আমার বাবার একটি গাড়ি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। সেই টাকাও আমাদের দেননি।'
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত রাকিব আলীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। জানা গেছে, তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন।
