অসময়ে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত, গত বছর আক্রান্ত ৪ জনেরই মৃত্যু: আইইডিসিআর
গত বছর মৌসুম ছাড়াও অফ সিজনে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এছাড়াও, প্রথমবারের মতো দ্বীপজেলা ভোলাতেও এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এছাড়াও, গত বছর দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত চারজনের সবাই মারা গেছেন।
আজ বুধবার দুপুরে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) মিলনায়তনে 'নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি' বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সভায় আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন বলেন, ২০০১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশে ৩৫৭ জন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৪১ জন। গড় মৃত্যুর হার ৭৩ শতাংশ। তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার শতভাগ।
তিনি বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাসকে নিপাহর মৌসুম ধরা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের আগস্ট মাসেও নিপাহ রোগী পাওয়া গেছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, খেজুরের কাঁচা রস ছাড়াও সংক্রমণের অন্য কোনো উৎস থাকতে পারে। এ ছাড়া গত বছর প্রথমবারের মতো ভোলায় রোগী শনাক্ত হয়েছে, যেখানে আগে কখনো এই ভাইরাসের অস্তিত্ব ছিল না।
সতর্কতা হিসেবে তিনি বলেন, অনলাইনেও খেজুরের রস কেনা যাবে না। আধা খাওয়া ফল খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, 'আমরা পিঠা উৎসবকে প্রোমোট করব, রস উৎসবকে নয়।' খেজুরের রস খাওয়ার পর কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আইইডিসিআরের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার শারমিন সুলতানা জানান, এখন পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা টিকা নেই। তাই খেজুরের রস খাওয়া থেকে বিরত থাকাই বাঁচার উপায়। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলেও সুস্থ মানুষের শরীরে নিপাহ ছড়াতে পারে।
তিনি বলেন, খেজুরের রস খাওয়ার পর ভাইরাস প্রকাশের ইনকিউবেশন পিরিয়ড ২ থেকে ২৮ দিন। আর মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের ক্ষেত্রে এই সময় ৯ থেকে ১১ দিন। কেউ খেজুরের রস খাওয়ার পর লক্ষণ দেখা দিলে, তাকে অন্তত ২৮ দিন আইসোলেশনে রাখার পরামর্শ দেন তিনি, যাতে অন্যের শরীরে ভাইরাস না ছড়ায়।
আইইডিসিআরের তথ্য বলছে, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই নিপাহ ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাট জেলায়।
নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে, সেগুলো হলো—জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমি, কাশি, অসংলগ্ন আচরণ, প্রলাপ বকা, ঘাড় ও পেশিতে ব্যথা, খিঁচুনি ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া থেকে পুরোপুরি বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও, পাখি বা প্রাণীর আধা খাওয়া কোনো ফল খাওয়া যাবে না এবং যেকোনো ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে।
আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসার পর সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে দুই হাত ধুয়ে ফেলার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কারও মধ্যে নিপাহ ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
