৮ বছর পর চট্টগ্রাম বন্দরে এল যুক্তরাষ্ট্রের ৫৮ হাজার মেট্রিক টন ভুট্টা
আট বছরের পর বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টার একটি চালান। 'এমভি বেলটোকিও' নামক মাদার ভেসেলটি ওয়াশিংটনের ভ্যাঙ্কুভার বন্দর থেকে রওনা হয়ে ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে এবং আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আমদানির মাধ্যমে দেশের পশুখাদ্য [পোল্ট্রি ও ডেইরি ফিড] শিল্পে মানসম্মত কাঁচামালের এক নতুন উৎসের দ্বার উন্মোচন হবে। ২০১৮ সালের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ভুট্টার প্রথম চালান।
আজ বুধবার কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে মার্কিন ভুট্টার এই চালানকে স্বাগত জানাতে চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের কৃষিবিষয়ক প্রতিনিধি এরিন কোভার্ট। তিনি আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাহার এগ্রো গ্রুপের চেয়ারম্যান রাকিবুর রহমান টোটুল, প্যারাগন গ্রুপের গৌতম মজুমদার, নারিশ পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারির পরিচালক রফিকুল ইসলাম বাবু ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এক্সেল এগ্রো ট্রেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াদ খান।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও মিনেসোটায় উৎপাদিত প্রায় ৫৮ হাজার মেট্রিক টন ভুট্টা নিয়ে আসা হয়েছে এই চালানে। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় তিন পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নাহার এগ্রো গ্রুপ, প্যারাগন গ্রুপ এবং নারিশ পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড যৌথভাবে এই চালানটি আমদানি করেছে।
এর মধ্যে নারিশ ২৯ হাজার টন, প্যারাগন ১৯ হাজার টন এবং নাহার এগ্রো ১০ হাজার টন ভুট্টা সংগ্রহ করবে। এই পণ্য চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ এবং নোয়াপাড়া বন্দরে খালাস করা হবে।
শিপিং ও লজিস্টিকস তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই পণ্য বাংলাদেশে পৌঁছাতে প্রায় ৪৬ দিন সময় লেগেছে। আমদানিকারকরা জানান, ভারত থেকে ভুট্টা আনতে ১০-১৫ দিন এবং ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা থেকে ৩০-৩৫ দিন সময় লাগলেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে লোডিং ও আনলোডিং মিলে প্রায় ৬০ দিন সময় প্রয়োজন হয়।
প্রতি টন ভুট্টার আমদানি মূল্য ধরা হয়েছে ২৪৬ ডলার। চট্টগ্রাম বন্দরে এই ভুট্টার ল্যান্ডিং কস্ট বা খরচ প্রতি কেজি প্রায় ৩৪ টাকা পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাহার এগ্রো গ্রুপের চেয়ারম্যান রাকিবুর রহমান টোটুল বলেন, 'বাংলাদেশে ভুট্টার চাহিদার মাত্র ৩০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে পূরণ হয়, বাকি ৭০ শতাংশই আমাদের আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন আমরা নিয়মিত ব্যবহার করলেও মানসম্মত ভুট্টার জন্য এই উৎসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দীর্ঘ সময় লাগলেও মানের দিক থেকে ইউএস ভুট্টা অনন্য।'
তিনি আরও বলেন, এর ফলে দেশের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ সহজ হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের এগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট বলেন, 'দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টার চালান এসে পৌঁছেছে দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, বরং দুই দেশের কৃষি-বাণিজ্যিক সম্পর্কের একটি মাইলফলক।'
তিনি আরও বলেন, 'মার্কিন ভুট্টা তার গুণগত মানের জন্য বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। আমি আনন্দিত যে, বাংলাদেশের পশুখাদ্য প্রস্তুতকারকরা এখন থেকে প্রাণিপুষ্টির একটি নির্ভরযোগ্য ও উন্নত উৎস হিসেবে আমাদের ভুট্টা ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন।'
সাধারণত বাংলাদেশ ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও মিয়ানমার থেকে ভুট্টা আমদানি করে থাকে। তবে মার্কিন দূতাবাসের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং দ্রুত লোডিং পয়েন্ট ব্যবস্থাপনার কারণে দীর্ঘ ৮ বছর পর এই বাণিজ্যিক ট্রায়াল সফল হয়েছে। আমদানিকারকরা মনে করছেন, মার্কিন ভুট্টার নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত হলে পশুখাদ্যের গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে।
