বীরাঙ্গনা যোগমায়া মালো আর নেই, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য
শরীয়তপুরের মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত সাক্ষী বীরাঙ্গনা যোগমায়া মালো আর নেই। ক্যানসারসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ৬৯ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে। পরে সন্ধ্যায় শরীয়তপুর মনোহর বাজার পৌরসভা শ্মশানে তার দাহ অনুষ্ঠিত হয়।
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২২ মে শরীয়তপুর সদর উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকাররা ভয়াবহ তাণ্ডব চালায়। ওই নৃশংসতায় যোগমায়া মালোর পরিবারের একাধিক সদস্য প্রাণ হারান। সে সময় মাত্র ১৫ বছর বয়সী এই গৃহবধূকে পাকিস্তানি সেনারা গ্রেপ্তার করে মাদারীপুরের এ আর হাওলাদার জুট মিলসে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় চরম অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নির্যাতন থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি স্বামী ও সন্তানদের কাছে ফিরে আসেন। তবে যুদ্ধ-পরবর্তী জীবনেও তার সংগ্রাম থামেনি বরং দারিদ্র্যের সঙ্গে তাকে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়েছে। নিজস্ব ঘরবাড়ি না থাকায় দীর্ঘ সময় ভাড়া বাসায় ও জীর্ণ টিনের ঘরে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেছেন তিনি। সরকারি সহায়তার জন্য বহুবার আবেদন করলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।
পরবর্তীতে ২০১৮ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে 'বীরাঙ্গনা'র স্বীকৃতি পান যোগমায়া মালো। তবুও অর্থনৈতিক সংকট তার নিত্যসঙ্গী ছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার করুণ জীবনগাথা প্রকাশিত হলে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। প্রশাসনের উদ্যোগে বিজয় দিবসের প্রাক্কালে (১৬ ডিসেম্বর) তাকে একটি 'বীর নিবাস' পাকা ঘর উপহার দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ঘরের চাবি তার হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং জীবনের শেষ দিনগুলো তিনি নিজের সেই নিরাপদ ঘরেই কাটিয়েছেন।
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন জানান, সোমবার দুপুরের দিকে বীরাঙ্গনা যোগমায়া মালো পরলোক গমন করেন। মৃত্যুকালে তিনি ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। মূলত বার্ধক্যজনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে কফিন জাতীয় পতাকায় মোড়ানো হয়। রাষ্ট্রীয় সালাম (গার্ড অব অনার) প্রদানের মাধ্যমে তাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
