সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর প্যানেল থেকে এটিএম আজহারের অপসারণ দাবি গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের
জাতীয় সংগীতের সময় দাঁড়াতে অস্বীকার করা সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে সংসদীয় বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। সেই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এটিএম আজহারুল ইসলামকে সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর প্যানেল থেকে অপসারণও চেয়েছে দলটি।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে যুক্ত ফ্রন্টের পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, "সংসদের শোক প্রস্তাবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী আলবদর-রাজাকার বাহিনীর সদস্য দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমন কি যে বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে জনগণের কাছে ভোট চেয়েছে, সেই বিএনপি দলের চিফ হুইপ যুদ্ধপরাধীদের নাম প্রস্তাব করে, যা অত্যন্ত লজ্জার।
"সংসদের অভ্যন্তরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির প্রতিনিধিরা দাঁড়াতে গড়িমসি করে জাতীয় সংগীত ও জাতীয় মর্যাদার প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছে। যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। যারা ১৯৭১ সালে এই দেশের জন্মকে রুখতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হয়েছিল, তারা আজ এই স্বাধীন দেশের সংসদে বসে তাদের সেই পুরনো চরিত্রের পরিচয়ই দিয়েছে।"
বিবৃতিতে বলা হয়, "সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর পাঁচ সদস্যের একজন হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত (অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ক্যাঙ্গারু কোর্টে মুক্তিপ্রাপ্ত) কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী এটিএম আজহারুল ইসলামকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ব্যক্তি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তাকে সংসদের সম্মানজনক সভাপতি মণ্ডলীর প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করা কেবল সংসদের মর্যাদাহানিই নয়, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রীয়ভাবে অবমাননা করা।"
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট বলছে, "২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে—এই দেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘাতক, গণহত্যার নায়কদের পুনর্বাসনের জন্য নয়। সেই অভ্যুত্থানে যে তরুণ প্রজন্ম রক্ত দিয়েছে, তারা রাজাকারের পুনর্বাসন দেখতে রাস্তায় নামেনি।
"আমরা বর্তমান সরকারকে সুস্পষ্টভাবে হুঁশিয়ার করছি, রাজনৈতিক স্বার্থে নিজেদেরকে মুক্তিযুদ্ধের দল বলে প্রচার করবেন আর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে স্বাধীনতাবিরোধী, গণহত্যাকারী ধর্মান্ধ শক্তিকে তোষণ করে চলবেন, এই পথে হাঁটলে আপনাদের জন্যও একই পরিণতি অপেক্ষা করছে। এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধকে বিস্মৃত হয়নি। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের ঋণ মুছে ফেলার ক্ষমতা কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের নেই।"
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংসদে শোক প্রস্তাব থেকে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের নাম অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। জাতীয় সংগীতের সময় দাঁড়াতে অস্বীকারকারী সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে সংসদীয় বিধিমালা অনুযায়ী যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এটিএম আজহারুল ইসলামকে সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর প্যানেল থেকে অপসারণও চেয়েছে দলটি।
