এনইআইআর বাতিলের দাাবিতে কাল রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা মোবাইল ব্যবসায়ীদের
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তিসহ কয়েক দফা দাবিতে রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)। একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সব মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি শামীম মোল্লা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, 'করহার যৌক্তিক করা, বিটিআরসির আরোপিত বিভিন্ন বাধা প্রত্যাহার এবং মুঠোফোন আমদানির নীতিমালা সহজ করার দাবিতে সংগঠনটির আন্দোলন আগে থেকেই চলছিল। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি।'
শামীম মোল্লা আরও জানান, 'এসব দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশের সব মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি রোববার রাজধানীতে ব্যবসায়ীরা পরিবারসহ অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। কর্মসূচির স্থান পরে জানানো হবে।'
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে দেশে মুঠোফোন হ্যান্ডসেট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে এনইআইআর ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। এই ব্যবস্থার তীব্র বিরোধিতা করে আন্দোলনকারীরা ওই দিনই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান।
বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ৪৫ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, এনইআইআর ব্যবস্থার বিরোধিতা করে মুঠোফোন হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ব্যবসায়ীদের একটি অংশ কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে নিম্নমানের, ক্লোনড ও ব্যবহৃত পুরোনো হ্যান্ডসেট বাজারে সরবরাহ করছে। মূলত কর ফাঁকি রোধ এবং অবৈধ ও নিম্নমানের হ্যান্ডসেট আমদানি বন্ধ করতেই এনইআইআর ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
বিটিআরসির দেওয়া তথ্যমতে, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব মুঠোফোন দেশের নেটওয়ার্কে সচল হয়েছে, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআরে নিবন্ধিত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সরবরাহ করা অবিক্রীত হ্যান্ডসেটের তালিকাভুক্ত ফোনগুলোও রেজিস্টারের আওতায় আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে নতুন চালু হওয়া হ্যান্ডসেটগুলো এনইআইআরের আওতায় এলেও সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ব্লক করা হবে না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। তারা বিদেশে ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি সর্বোচ্চ দুটি নতুন হ্যান্ডসেট দেশে আনতে পারবেন। এসব হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের জন্য তারা তিন মাস সময় পাবেন। এই সময় ফোনগুলো সচল থাকবে এবং প্রয়োজনীয় ভ্রমণসংক্রান্ত নথিপত্র দেখিয়ে এনইআইআরে নিবন্ধন করা যাবে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে এনইআইআর কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের মুখে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি সেই সময়সীমা ১৫ দিন পিছিয়ে ১ জানুয়ারি নির্ধারণ করে। একই সঙ্গে মুঠোফোন আমদানিতে শুল্কও হ্রাস করা হয়েছিল। তবে ব্যবসায়ীরা তাদের অবস্থানে অনড় থেকে রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
