নির্বাচন ও গণভোট: আজ থেকেই প্রচারণায় নামার নির্দেশ তথ্য সচিবের
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আজ থেকেই প্রচারণা কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা। তিনি বলেছেন, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রচার কৌশল হতে হবে নিবিড়, জনস্পর্শী ও উদ্ভাবনী।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। মাঠ পর্যায়ের নির্বাচনী প্রচার কৌশল নির্ধারণে জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়।
তথ্য সচিব বলেন, 'প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী এবারের নির্বাচন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন ও অভূতপূর্ব হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে জেলা তথ্য অফিসগুলোকে জনমত গঠনের মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাই আজ থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'যেহেতু একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে তাই ইউনিয়ন বা গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বিষয়টি জনগণকে বোঝানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তথ্য কর্মকর্তারা একটি 'ইনোভেটিভ টিম' হিসেবে কাজ করে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।'
প্রচার কাজে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সমন্বয় করে কাজ করবে বলে জানান সচিব। এছাড়া গুজব প্রতিরোধ ও ফ্যাক্ট চেকিংয়ের জন্য পিআইবির নেতৃত্বে 'বাংলা ফ্যাক্ট'-এর সঙ্গে তথ্য কর্মকর্তাদের সংযোগ স্থাপনের নির্দেশ দেন তিনি। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে আচরণবিধির সঙ্গে সমন্বয় করে ৩৪টি গান প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো আঞ্চলিক ভাষায় গেয়ে নির্দিষ্ট অঞ্চলে পরিবেশন করা হবে।
তিনি আরও জানান, গ্রামের হাট-বাজারে মানুষকে হাতে-কলমে শেখাতে 'হ্যাঁ/না' ভোটের ডেমো প্রদর্শন করা হবে। প্রচার কৌশল আধুনিক ও হৃদয়গ্রাহী করার ফলে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় মাঠ পর্যায়ের ৬৮টি অফিসের কর্মকর্তারা অংশ নেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম, যুগ্ম সচিব মাহফুজা আখতার, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন এবং সৈয়দ এ মু'মেন।
