আইসিটির আজকের রায় স্বচ্ছ-নিরপেক্ষ, আমাদেরটা ছিল ‘জেনোসাইড অব জাস্টিস’: জামায়াতে ইসলামী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ রায়কে 'স্বচ্ছ' ও 'নিরপেক্ষ' বলে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলেছে, এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। একই সঙ্গে, পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আশ্রয়দানকারী প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) রায় ঘোষণার পর এক তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে দলের হয়ে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, 'এই ঘৃণ্য মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার ছিল ১৮ কোটি মানুষের গণআকাঙ্ক্ষা। আংশিক হলেও আজ ট্রাইব্যুনালের রায়ের মধ্য দিয়ে জাতির সেই আশা কিছুটা পূর্ণ হয়েছে।'
গোলাম পরওয়ার এই দিনটিকে বাংলাদেশের রাজনীতি, আইনের শাসন ও বিচারের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'কোনো একজন সরকার প্রধানের সর্বোচ্চ সাজা, এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম। এটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।'
তিনি আরও বলেন, এই বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের ছিল, কারণ এটি একটি নির্দলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হয়েছে। বিচার ও রায় সরাসরি গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত হওয়ায় এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই রায়ের সঙ্গে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের তুলনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, 'এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে জামায়াত ইসলামীর প্রিয় নেতৃবৃন্দের ব্যাপারে যে বিচার হয়েছে, তা নিয়ে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা দুনিয়াতে প্রশ্নবিদ্ধ।'
তিনি অভিযোগ করে বলেন, 'সে বিচারের বাদী সাজানো, এজাহার সাজানো, মামলা সাজানো, সাক্ষী সাজানো, বিচারক সাজানো এমনকি রায়ও সাজানো ছিল। আদালত চত্বর থেকে সাক্ষী গুম করা হয়েছে, বিদেশ থেকে রায় লিখে ডিকটেট করা হয়েছে। স্কাইপে কেলেঙ্কারির মতো ঘটনাও ঘটেছে। ব্রিটেনের আদালতে সেই বিচারকে বলা হয়েছে "জেনোসাইড অফ জাস্টিস" [বিচারের গণহত্যা]।'
'আমরা তো সেই নেতৃবৃন্দকে আর ফিরে পাব না, তাদের ওপরে জুলুম করা হয়েছে। সেই বিচার ছিল ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ অত্যাচার। কিন্তু আজকে যে রায় পাওয়া গেল, এই বিচার হচ্ছে যথার্থ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং প্রশ্নাতীত একটা বিচার এ জাতি পেয়েছে', আরও বলেন তিনি।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের আশ্রয় দেওয়াকে 'আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী' বলে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি প্রতিবেশী দেশকে এসব 'ঘৃণ্য অপরাধীদের' পক্ষ না নিয়ে অবিলম্বে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি একটি দেশের 'সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণের' প্রথম দায়িত্ব।
সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, 'এই পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে যারা আশ্রয় দিয়েছেন, আমরা মনে করি এই ঘৃণ্য অপরাধীদের পক্ষে তারা অবলম্বন করেছেন। আন্তর্জাতিক সকল আইনের তাদের পরিপন্থী। আমরা দাবি করব তাদের অবশ্যই বাংলাদেশে ফেরত দিতে হবে এবং আইনের কাছে তাদেরকে সোপর্দ করতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'গণতন্ত্রের দাবি করলে, সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ দাবি করলে, সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের দাবিদার প্রতিবেশী হলে এটি হচ্ছে তার প্রথম দায়িত্ব। একজন পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে আর বিলম্ব না করে তাকে আইনের কাছে সোপর্দ করা উচিত।'
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অপর দুই আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে ফাঁসি এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
