ধর্মের নামে রাজনীতি করা একটি দলের হাতে নারীরা নির্যাতিত হচ্ছেন: সালাহউদ্দিন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে ধর্মের নামে ব্যবসা করা একটি রাজনৈতিক দল নারীদের অগ্রগতি রুখতে চায়। সেই দলের হাতে নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে। নারীদের অন্দরমহলে বন্দী রাখতে কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিতে চায় তারা।
আজ শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে 'নারীর ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও অসম্মান: প্রতিরোধে প্রস্তুত সচেতন নারী সমাজের মৌন মিছিল ও সমাবেশে' এমনটা বলেন তিনি।
সালাহউদ্দিন বলেন, 'দেশে একটি দল যারা ধর্মের নামে ব্যবসা করে, রাজনীতির ব্যবসা করে এবং বিভিন্ন রকমের জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে রাজনীতি করতে চায়, ভোটের বৈতরণী পার হতে চায়, তাদের হাতে আজকে নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'তারা চায় যেন এদেশের নারীরা অন্দরমহলে বন্দী থাকে, যেন বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী অন্ধকারে থাকে এবং নারীর অগ্রগতি না হয়। সেই জন্য তারা বলছে কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিতে হবে'।
'যারা নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর বক্তব্য দিচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য খারাপ', যোগ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন চান 'নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হোক'। তার মতে, 'কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিলে নারীদের কর্মসংস্থান কমে যাবে। যারা অফিস-আদালত, কলকারখানা পরিচালনা করেন, তারা স্বাভাবিকভাবেই নারীদের চাকরি দিতে চাইবেন না।'
নারী নির্যাতনের কার্যকর প্রতিবাদের অভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, 'সারা বাংলাদেশে যে নারী নির্যাতন বর্তমানে হচ্ছে, অতীতেও হয়েছে, তার কোনো কার্যকর প্রতিবাদ আমরা এখনো পর্যন্ত দেশে গড়ে তুলতে পারি নাই।'
তিনি বলেন, 'বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে আইন কঠোর করা হলেও এর সঠিক বাস্তবায়ন হয় না। আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে নারী নির্যাতনকারী ও ধর্ষকরা পার পেয়ে যায়।'
তিনি আরও বলেন, 'কোনো কোনো সময় শক্ত আইনের এই অপব্যবহারগুলো আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করে থাকেন, সেদিকেও আমরা অবশ্যই নজর দেব।'
দেশের অগ্রগতির জন্য নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে গেলে বাংলাদেশের সমগ্র জনগোষ্ঠী, যারা অর্ধেক নারী, অর্ধেক পুরুষ, তাদের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের প্রগতি, সামাজিক নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং পারিবারিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই দেশ এগিয়ে যাবে।'
তিনি আরও জানান, বিএনপি তাদের ৩১ দফার ভিত্তিতে নারীদের জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও বাসস্থানের মতো সব ক্ষেত্রে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে, যেখানে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ থাকবে।
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'আমরা একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করতে চাই, যেখানে সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত হবে।'
তিনি সম্প্রতি জারি হওয়া রাষ্ট্রপতির আদেশ এবং জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট আয়োজনের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, 'জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, আমরা তা অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালনে অঙ্গীকারবদ্ধ।' তার মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করা হলে তা সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী হবে এবং বেশিসংখ্যক ভোটার মতামত দিতে পারবেন।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন বা আইন প্রণয়ন করা যাবে না। এর জন্য নির্বাচিত জাতীয় সংসদ প্রয়োজন। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্ব যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সেজন্য আমরা কোনো আরোপিত আইন বা আদেশ দিয়ে জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করতে দিতে চাই না।'
