নির্বাচনের বাইরে অন্য ভাবনা জাতির জন্য বিপজ্জনক: বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি’কে প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, নির্বাচনের বাইরে অন্য কোনো ভাবনা জাতির জন্য গভীরভাবে বিপজ্জনক। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) তিনি এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
আজ (৩১ আগস্ট) যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে বলেন, 'নির্বাচনের জন্য যে সময় ঘোষণা করা হয়েছে, সে সময়েই হবে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে। নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। কেউ যদি নির্বাচনের বাইরে অন্য ভাবনা করে তবে সেটি হবে জাতির জন্য গভীর বিপজ্জনক।'
তিনি আরও বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে দুর্গাপূজা ঘিরে কেউ যেন ষড়যন্ত্র বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির জাতীয় পার্টির কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, 'জাতীয় পার্টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একেক পার্টি একেক রকম মতামত দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা শুনেছেন।'
এর আগে, বিকেলে জামায়েতে ইসলামী এবং সন্ধ্যায় এনসিপি এবং বিএনপির সঙ্গে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাতীয় পার্টি (জাপা) নিষিদ্ধের ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এসময় তিনি বলেন, 'ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বলে প্রধান উপদেষ্টা আস্বস্ত করেছেন। বিএনপি আশা রাখে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী নির্বাচন হবে।'
অন্যদিকে, এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টাকে জাতীয় পার্টির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে পরামর্শ দেয়।
বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, 'আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি— জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের দোসর ছিল। আওয়ামী লীগের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, একই ধরনের সিদ্ধান্ত জাতীয় পার্টির ব্যাপারেও নেওয়া যেতে পারে।'
একইসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, 'জুলাই ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে তিনটি অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা দিতে জাতীয় পার্টি অংশ নিয়েছে। তাদের বর্তমান দুই মহাসচিবের নির্বাচনী পোস্টারেও আওয়ামী লীগ মনোনীত লেখা ছিল। ফলে যা আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি যে একই রকম, সেটাই নির্দেশ করা। এজন্য জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছি।'