বরিশালে ঢাকামুখী যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

'ভাইরে ভাই, অ্যা বোজলে জীবনেও বাসে রওয়ানা দিতাম না। পা হালাইলেই (ফেললে) ভোগান্তি। ৫শ টাকার ভাড়া ৮শ টাকা দিয়াও টিকেট পাই না। ঈদে আর কোনোদিন বাসে উডমু না।'
বরিশালের নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে এভাবেই নিজের ভোগান্তির কথাগুলো বলছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব রোকেয়া বেগম। বাকেরগঞ্জ উপজেলার বাদলপাড়া থেকে এসেছেন তিনি, গন্তব্য ঢাকা। সঙ্গে ছোট দুই নাতি-নাতনি।
রোকেয়া বেগম বলেন, 'লঞ্চে ম্যালা ভিড় হুইন্না বাস টার্মিনালে আইছি। এইহানেও মউতের ভিড়। ঠেলাঠেলি, মারামারি। এহন ভার্সিটির দোতলা বাসে উডছি ৬০০ টাকা দিয়া।'
রোকেয়া বেগমই শুধু নন, ঈদুল ফিতরের ছুটির শেষ দিনে কর্মস্থলে ফেরা দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের এভাবেই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে সড়কপথে। সময়মতো বাস না পাওয়া, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহনশ্রমিকদের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে বিভিন্ন বাস টার্মিনালে।
গোল্ডেন লাইন পরিবহনের টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন বাবুগঞ্জের দেহেরগতি ইউনিয়নের মুসলিম মাঝি। তিনি বলেন, 'ওই গাড়ির টিকিট নিলেও বরিশাল নথুল্লাবাদ থেকে সবগুলো সিটই পূরণ হয়ে গেছে। তাই রহমতপুর থেকে আমাকে না উঠিয়েই বাসটি চলে গেছে। এখন সেই টাকা ফেরত পাবো কি না জানি না।'
কবিরুল ইসলাম নামে আরেক যাত্রী বলেন, বিএমএফ কাউন্টারে টিকিট নিতে গিয়েছিলাম। সারাবছর ওরা সাড়ে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া নিতো। এখন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা নিচ্ছে। আমি প্রশ্ন করায় দুজন কলার ধরে আমাকে চড়-থাপ্পড় দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা লোকারণ্য। নানা বয়সি মানুষ বিভিন্ন কাউন্টারের সামনে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। সড়কে সারিবদ্ধভাবে বিআরটিসি বাস থামিয়ে যাত্রী তোলা হচ্ছে। বিভিন্ন পরিবহন টার্মিনালের কাছাকাছি আসলেই যাত্রীরা ছুটে যাচ্ছেন খালি বাসের দিকে।
পারুল নামে এক যাত্রী বলেন, 'দেড় ঘণ্টা চেষ্টা করছি। কোনো গাড়িতে টিকিট পাচ্ছি না। বাসে ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছে।'
বাসচালক নিজাম হোসেন বলেন, যাত্রী আছে অনেক। যাত্রীদের মধ্যে স্থিরতা নেই। তারা দুই-চার টাকা বেশি দিতেও চায় না। বরিশাল থেকে গিয়ে আমাদের তো খালি বাস নিয়ে ফিরতে হয়। সেই খরচ তুলতেই কোনো কোনো বাস ৫০/১০০ টাকা বেশি নিতে পারে।
বিআরটিসি বরিশাল ডিপো ম্যানেজার জামিল হোসেন বলেন, যাত্রী চাপ সামলাতে বরিশাল ডিপো ছাড়াও ঢাকার দুটি ডিপোর কিছু দোতলা বাস বরিশাল ঢাকা রুটে যাত্রী পরিবহন করছে। এগুলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে চুক্তিবদ্ধ। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসগুলো যুক্ত করেছে বিআরটিসি হেড অফিস।
বিআরটিএ বরিশালের সহকারী পরিচালক সৌরভ দাস বলেন, 'বিআরটিএ যাত্রী হয়রানি বন্ধে বিভাগের বিভিন্ন বাস টার্মিনালে অভিযান পরিচালনা করছে। যাত্রী হয়রানি বন্ধে আমি নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে রয়েছি। কোনো যাত্রী যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি।'
জানতে চাইলে র্যাব-৮-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ বলেন, ঈদের আগে যেভাবে যাত্রীরা নিরাপদে বাড়ি ফিরেছিলেন, তেমনি কর্মস্থলে ফেরার পথেও যেন নিরাপদে ফিরতে পারেন, সেজন্য আমরা কাজ করছি। সড়ক পথে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে র্যাব কঠোর অবস্থানে রয়েছে।