ঢাকায় কখন কোথায় ঈদ জামাত

বাংলাদেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামীকাল সোমবার (৩১ মার্চ) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে।
এবার, ঢাকা মহানগরীতে ১১১টি ঈদগাহে এবং ১৫৭৭টি মসজিদসহ মোট ১৭৩৯টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
রাজধানী ঢাকায় ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। এতে অংশ নেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জাতীয় ইদগাহ মাঠে আসা মুসল্লীদের জন্য থাকবে নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকা। জিরো পয়েন্ট, সরকারি কর্মচারি হাসপাতাল, দোয়েল চত্বর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর ভবনের পাশের গলি, ইউবিএল ক্রসিং, কন্ট্রোল রুম গ্যাপ ও মৎস্যভবন ক্রসিংয়ে ডাইভারশন থাকবে।
এছাড়া, প্রতি বছরের মতো এবারও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, সকাল ৭টায় প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মুহিববুল্লাহিল বাকী। মুকাব্বির থাকবেন মসজিদের অবসরপ্রাপ্ত মুয়াজ্জিন হাফেজ মো. আতাউর রহমান।
দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল ৮টায়। ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। মুকাব্বির থাকবেন এই মসজিদের প্রধান খাদেম মো. নাসিরউল্লাহ।
সকাল ৯টায় হবে তৃতীয় জামাত। এতে ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস মাওলানা মুফতি ওয়ালিউর রহমান খান। মুকাব্বির থাকবেন জাতীয় মসজিদের খাদেম মো. আবদুল হাদী।
চতুর্থ জামাত হবে সকাল ১০টায়। ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদ ও সংকলন বিভাগের সম্পাদক মুশতাক আহমদ। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররমের খাদেম মো. আলাউদ্দীন।
সকাল পৌনে ১১টায় পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাতে ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। মুকাব্বির থাকবেন জাতীয় মসজিদের খাদেম মো. আক্তার মিয়া।
পাঁচটি জামাতের কোনোটিতে ইমাম উপস্থিত না থাকলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মাওলানা মো. জাকির হোসেন বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার বাসিন্দাদের জন্য আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে বড় ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে ১০ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন। এই জামাতটি সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দুটি ঈদ জামাত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের সিনিয়র ইমাম খতিব হাফেজ মাওলানা নাজীর মাহমুদ এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন সিনিয়র মোয়াজ্জিন এম এ জলিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৭টায় জমিয়তে আহলে হাদিসের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন শায়খ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত সকাল সোয়া ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে জামাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঈদ জামাত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। মগবাজারের বিটিসিএল কলোনির জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে সকাল সাড়ে ৬টা, সাড়ে ৭টা ও ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। লালবাগ শাহী মসজিদে সকাল ৮টা ও ৯টায় ঈদের দুটি জামাত হবে। পুরান ঢাকার তারা মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ও ৯টায় ঈদের জামাত হবে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ছয়টি জামাত হবে। মারকাজুল ফিকরিল ইসলামী মসজিদে সকাল ৭টায়, সি ব্লকের উম্মে কুলসুম জামে মসজিদে সকাল সোয়া ৭টায় এবং এফ ব্লক জামে মসজিদে সাড়ে ৭টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া রাজধানীর ধানমণ্ডি, মিরপুর, আরামবাগ, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায়ও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকার সব স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং মুসল্লিদের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ঈদ জামাতের আয়োজন নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররম এবং অন্যান্য স্থানগুলোতে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। ডিএমপির কমিশনার জানিয়েছেন, ঈদগাহ মাঠ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং নিরাপত্তার জন্য বম্ব স্কোয়াড, সোয়াট ও কে-নাইন ইউনিট প্রস্তুত থাকবে।