মোগল থেকে টার্কিশ মোটিফ: বাহারি নকশার কারুকাজে সেজেছে নারীদের ঈদের পোশাক
মুসলিমদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরকে ঘিরে রাজধানীর শপিংমল ও ফ্যাশন হাউসগুলোতে কেনাকাটা জমে উঠতে শুরু করেছে। ঈদ মানেই নতুন পোশাকের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। আর সেই উৎসবের আনন্দকে রাঙিয়ে তুলতে দেশের ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো এবার হাজির হয়েছে আধুনিক ও বৈচিত্র্যময় সব সংগ্রহ নিয়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতে কেনাকাটার ভিড় ধীরে ধীরে বাড়ছে। উৎসবের আমেজ ধরে রাখতে পোশাকে উজ্জ্বল রঙের আধিক্য থাকলেও গরমের কথা মাথায় রেখে এবার ফ্যাশন হাউসগুলোতে হালকা ও স্বস্তিদায়ক রঙের পোশাকের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে লিনেন ও সুতি কাপড়ের তৈরি উজ্জ্বল রঙের টপস ও কামিজগুলোতে নতুন নতুন ডিজাইন ও প্যাটার্ন নজর কাড়ছে ক্রেতাদের।
নিউমার্কেটের চাদনী চকে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মারিয়া আক্তার জানান, তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে আকাশী বা হালকা সবুজ রঙের পোশাক। তিনি বলেন, "ঈদ মানেই গর্জিয়াস পোশাক কিনি তা নয়। একটা লাহোরি থ্রিপিস কিনেছি, এখন সুতি কিছু খুঁজছি।"
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সালোয়ার-কামিজের কাটিং ও প্যাটার্নে এবার বেশ ভিন্নতা আনা হয়েছে। কোথাও লম্বা কুর্তা ও পালাজ্জো প্যান্টের সমন্বয়, আবার কোথাও সোজা কাটের কামিজের সঙ্গে স্ট্রেইট প্যান্টের ম্যাচিং ডিজাইন দেখা যাচ্ছে। সামিয়া ফ্যাশন হাউসের বিক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, "নানা রকমের সালোয়ার কামিজ এনেছি আমরা। পাকিস্তানি, লাহোরি ও কাশ্মিরি পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে।"
সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি ঈদে শাড়ির নকশাতেও এসেছে বড় বৈচিত্র্য। এবারের সংগ্রহে শাড়ি ও অন্যান্য পোশাকে কাঁথা স্টিচ, মোগল, জামদানি, ট্র্যাডিশনাল এবং কাশ্মীরি মোটিফের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ঘরানার ইজনিক, ফ্লোরাল, ট্রাইবাল, টার্কিশ আর্ট, ইসলামিক, ইজিপ্সিয়ান, গ্রিক, ওরিয়েন্টাল এবং 'বিউটি অব রাগস'-এর মতো মিক্সড মোটিফের অনুপ্রেরণা ব্যবহার করা হয়েছে।
এসব মোটিফ ও নকশাকে ফুটিয়ে তুলতে হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি, কারচুপি, স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, সিকুইন ওয়ার্ক, ডিজিটাল প্রিন্ট এবং টাই-ডাইয়ের মতো কারুকাজ ব্যবহার করেছেন ডিজাইনাররা।
সব মিলিয়ে এবারের ঈদে নারীদের পোশাকে যেমন ঐতিহ্যের ছোঁয়া রয়েছে, তেমনি আধুনিক ফ্যাশন ট্রেন্ডের প্রভাবও স্পষ্ট। শাড়ি থেকে সালোয়ার-কামিজ কিংবা কাফতান—বৈচিত্র্যময় পোশাকেই এখন মুখর রাজধানীর ঈদের ফ্যাশন বাজার।
