সিন্ডিকেট বজায়ে ভূমিকা রয়েছে আইনি ফাঁকফোকরেরও, সমাধানে কাজ করছে সরকার: লুৎফে সিদ্দিকী

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেছেন, সিন্ডিকেটের কারণে বাজারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কিছু আইন এসব সিন্ডিকেটের অস্তিত্বকে বৈধতা দিচ্ছে, তবে সরকার এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য কাজ করছে।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে 'এলডিসি গ্রাজুয়েশন: ইমপ্যাক্টস অন দ্য এগ্রো সেক্টর, এক্সপোর্ট ডাইভার্সিফিকেশন, অ্যান্ড দ্য ওয়ে ফরোয়ার্ড' শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য তিনি পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার প্রতিযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সিন্ডিকেটের কারণে বাজার স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছে না এবং ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রণালয়ের কর্মীদেরও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
গতকাল ২৪ মার্চ চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ফেরি পরিষেবা চালুর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিকল্পনা থাকলেও সিন্ডিকেটের কারণে এ পরিষেবাটি দীর্ঘদিন অকার্যকর ছিল।
তার ভাষ্য, এসব সিন্ডিকেট বিভিন্ন খাত, ব্যবসা ও মন্ত্রণালয়ে সক্রিয় থেকে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে আইনকেও প্রভাবিত করে। তিনি বলেন, 'আমার কাজ প্রতিদিন একের পর এক অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান করা। আমাদের সিন্ডিকেট নির্মূল করতে হবে এবং এই সংস্কৃতি বদলাতে হবে।'
তিনি বলেন, "জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর); বাংলাদেশ ব্যাংক; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ; বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা); বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা); বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সঙ্গে প্রতি মাসে আমি মিটিংয়ে বসি। যেখানে সমস্যা দেখা দেয়, সেটা সমাধান করছি।"
লুৎফে সিদ্দিকী জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কেইপিজেড এর ভূমি নিবন্ধন সংক্রান্ত জটিলতা বর্তমান সরকার সমাধান করেছে। প্লেনের টিকেটের দাম কমাতেও সরকার কাজ করেছে।
তিনি বলেন, এলডিসি গ্রাজুয়েশনে যাওয়ার সময় নিয়ে না ভেবে বাংলাদেশকে প্রকৃত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। সরকার, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, আমলাতন্ত্র, ব্যবসায়ী ও সমাজের অন্য সবাই মিলে বাংলাদেশকে 'ওয়ান বাংলাদেশ' হিসেবে গড়তে হবে।
বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএএমএ) সভাপতি কেএসএম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশের কীটনাশক বাজারের আকার ৭৫০ কোটি টাকা, কিন্তু ২০টি দেশীয় কোম্পানি মোট চাহিদার মাত্র ৪ শতাংশ উৎপাদন করে।
তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যমান নীতিমালা আমদানি সহজ করলেও অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ক্ষেত্রে অনুৎসাহ তৈরি করছে। তিনি বলেন, দেশের ৯৫০টি স্থানীয় কোম্পানির আমদানির ৪১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, অথচ নীতিমালার সুবিধা নিয়ে মাত্র সাতটি বহুজাতিক কোম্পানি পুরো বাজারের ৫৫ শতাংশ শেয়ার দখল করে রেখেছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, "গত ২০ বছর ধরে দেশে ব্যবসা সহজ করার বিষয়ে কেবল কথাই হয়েছে। তবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকৃত অগ্রগতি নিশ্চিত করতে কাজ করছে।"
লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, "সরকারি দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ব্যবসার পরিবেশ সহজীকরণের ঘাটতি রয়েছে। কিছু জানতে চাইলে বলে, 'স্যার, আমি তো চিঠি দিয়েছি।' এক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অন্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের অভাব আছে। আমরা এখন সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি, বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আগামী এক মাসের মধ্যে ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো (এনএসডাব্লিউ)-তে আরও ১৯টি সংস্থা যুক্ত হবে। ইতোমধ্যে ১৩টি সংস্থা যুক্ত হয়েছে।"